৬০ জন বনকর্মীর অভিযানে জঙ্গলে ফিরল গণ্ডার শাবক

পুরুষ গণ্ডারের তাড়া খেয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল মা গণ্ডার ও তার শাবক। চরম আতঙ্ক, ছোটাছুটি এবং ধকলের পর মৃত্যু হয় মা গণ্ডারটির। অন্য দিকে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া প্রায় এক থেকে দেড় বছরের গণ্ডার শাবককে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অভিযানের পর নিরাপদে জঙ্গলে ফিরিয়ে দিল বন দফতর। বুধবারের এই ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে কুঞ্জনগর এলাকায়। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে পশ্চিম রেঞ্জের কুঞ্জনগর বিট এলাকা থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী গণ্ডার তার শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। একটি পুরুষ গণ্ডারের তাড়া খেয়েই তারা জঙ্গলের বাইরে চলে এসেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পারে বন দফতর। লোকালয়ে ঢোকার পর মানুষের ভিড়, আতঙ্ক এবং দীর্ঘক্ষণ ছোটাছুটির জেরে মা গণ্ডারটি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

এর পর মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শাবকটি। আতঙ্কিত অবস্থায় গ্রামের মধ্যে ছোটাছুটি করতে থাকে সেটি। শাবকটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য সঙ্গে সঙ্গে অভিযান শুরু করেন বনকর্মীরা। জাল ব্যবহার করে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, মানুষের ভিড় এবং শাবকটির উত্তেজিত আচরণের কারণে প্রথম দিকে সফল হননি বনকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে বন দফতর। স্থানীয়দের দূরে সরিয়ে শাবকটিকে শান্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি লাগাতার নজরদারি চালানো হয়। এই উদ্ধার অভিযানে জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী বিভাগের ছয়টি রেঞ্জের প্রায় ৬০ জন বনকর্মী অংশ নেন।

শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যার দিকে পশু চিকিৎসকদের দল শাবকটিকে সফল ভাবে ট্রাঙ্কুলাইজ করে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাকে পরিবহণ খাঁচায় তোলা হয়। পরে বন দফতরের কর্মীরা শাবকটিকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হরিণডাঙা টাওয়ার সংলগ্ন তৃণভূমি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানেই তাকে নিরাপদে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। মা গণ্ডারের মৃত্যুতে বন দফতর ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও শাবকটিকে নিরাপদে তার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে পারায় স্বস্তি মিলেছে। বনকর্মীদের দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অভিযানের পর শেষ পর্যন্ত সফল ভাবে শেষ হয় উদ্ধার পর্ব।