আগামী বুধবার বঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। সোমবার বিকেল ৫টায় শেষ হচ্ছে নির্বাচনের প্রচারপর্ব। তার আগেই শেষবেলার প্রচারে কলকাতার রাজপথে নেমে এক ঐতিহাসিক শক্তি প্রদর্শন করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে যাদবপুরের সুকান্ত সেতু থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই মহামিছিল কার্যত ‘জনসুনামি’তে পরিণত হয়। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো।
তৃণমূলনেত্রীর এই বিশাল মিছিল যাদবপুরের সুকান্ত সেতু থেকে শুরু হয়ে ঢাকুরিয়া ব্রিজ, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট এবং বালিগঞ্জ ফাঁড়ি হয়ে তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তিনি ছুঁয়ে গেলেন পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র— যাদবপুর, টলিগঞ্জ, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ এবং ভবানীপুর। মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি হাঁটতে দেখা যায় টালিগঞ্জের প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস, যাদবপুরের দেবব্রত মজুমদার, রাসবিহারীর দেবাশিস কুমার, বালিগঞ্জের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কসবার জাভেদ খান-সহ দলের স্থানীয় নেতৃত্বকে।
নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো গোটা রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই সমান নজর দিয়েছিলেন। প্রচারের প্রথমদিকে তিনি বিভিন্ন জেলায় ছুটে বেড়ালেও, নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর সামলানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসদের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের ওপর। তবে ভোটের ঠিক আগে, শেষলগ্নে কলকাতার বুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মিছিলের প্রতিটি মোড়ে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাক-ঢোল ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের রাস্তাঘাট। শেষবেলায় নিজের গড়ে দলনেত্রীর এই রোড শো তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কলকাতার বুকে তৃণমূলের এই বিশাল জমায়েত রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের। প্রচারের শেষ দিনে এই জনসমুদ্র বুঝিয়ে দিল যে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রকেই ছাড়াছাড়ির পক্ষপাতী নন তৃণমূল সুপ্রিমো।
