শিলিগুড়ির পার্কিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বড় পদক্ষেপ, মেলা ময়দানে হচ্ছে নতুন পার্কিং লট

শিলিগুড়ি শহরের পার্কিং সমস্যা মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন মেলা ময়দানকে আর মেলার জন্য ব্যবহার না করে সেখানে তৈরি করা হচ্ছে স্থায়ী পার্কিং লট। মূলত বিধান মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের পার্কিং এবং যানজটের সমস্যা মোকাবিলা করতেই এই উদ্যোগ। বৃহস্পতিবার প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই পার্কিং প্রকল্পের শিলান্যাস করেন পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক ডঃ শংকর ঘোষ। এদিন প্রদীপ প্রজ্বলন, ফিতা কাটা এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনার বীর বিক্রম রাই, ডিসিপি ট্রাফিক শামসুদ্দিন আহমেদ, এসিপি ট্রাফিক সুবীর দত্ত-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। শিলান্যাসের পর ডঃ শংকর ঘোষ জানান, বিধান মার্কেটের পার্কিং সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে এই সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবার সেই সমস্যা মোকাবিলায় বিকল্প পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় পার্কিং পরিষেবা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে সেখানে আরও পরিকাঠামোগত কাজ বাকি রয়েছে। পুজোর আগেই পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও পূর্ণাঙ্গ করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিলান্যাস হওয়া প্রকল্পের কাজ আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রাও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যে মেলা ময়দান এতদিন বিভিন্ন মেলার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, আগামী দিনে সেই জায়গাটিকে মূলত পার্কিং পরিকাঠামোর কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শহরের মধ্যে বড় ভলভো বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার কথাও জানান শংকর ঘোষ। শহরের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় এই বাসগুলিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার টেন্ডার ইতিমধ্যেই হয়েছে এবং ওয়ার্ক অর্ডারও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ তারিখে সেই প্রকল্পের উদ্বোধন হবে বলে জানান তিনি। ফুলবাড়িতে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে টোল গেট-সহ একাধিক প্রকল্পের কথাও এদিন তুলে ধরেন মন্ত্রী।

আগামী দিনে শহরের বিভিন্ন মেলা কোথায় হবে, তা নিয়েও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শংকর ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, পুজোর পর শহরের বিভিন্ন মেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দেওয়া হবে এবং সেই জায়গাগুলিতেই মেলা আয়োজন করতে হবে। শহরের মাঝখানে মেলা করার পরিবর্তে যেখানে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, সেই এলাকাগুলিকে বেছে নেওয়া হবে। বিশ্ব বাংলা শিল্পী হাটকেও ভবিষ্যতে মেলা বা অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহারের ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এই বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আলোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম থাকবে। পাশাপাশি অবৈধ নির্মাণ কিংবা রাস্তা দখল করে বেআইনিভাবে ব্যবসা করার বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী।