সিধু-কানু গাঁওতা ক্লাবের উদ্যোগে বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপন, আদিবাসী উন্নয়নে সরব ভারতী ঘোষ

বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রবিবার রামগড়ের খাস জঙ্গল ফুটবল মাঠে সিধু-কানু গাঁওতা ক্লাবের পরিচালনায় আয়োজিত হল এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক তথা বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ভারতী ঘোষ। আদিবাসী সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নৃত্যের মাধ্যমে এদিনের অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। অনুষ্ঠানের শুরুতে সিধু-কানুর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন ভারতী ঘোষ। এরপর আদিবাসী মহিলা ও পুরুষদের সুসজ্জিত শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে অনুষ্ঠানে বরণ করে নেওয়া হয়। আদিবাসী মহিলারা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নৃত্য পরিবেশন করেন। তাঁদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুরুষেরা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত করে তোলেন। একপর্যায়ে আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে নৃত্যে পা মেলান ভারতী ঘোষও।

মঞ্চে ভারতী ঘোষ-সহ উপস্থিত অতিথিদের আদিবাসী মহিলা ও পুরুষেরা সাদরে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের রাষ্ট্রীয় সভাপতি অরুণ মুখার্জি, দিল্লি থেকে আগত বিশিষ্ট সমাজসেবী অরুণ উপাধ্যায়, সুব্রত মণ্ডল, শুভেন্দু পাল এবং শিক্ষক রেবতী রেবন টুটু-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিন আদিবাসী গুণীজন ও শিক্ষকদের চাদর ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানান ভারতী ঘোষ। পাশাপাশি বিভিন্ন নৃত্যদলকেও সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কচিকাঁচাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্কুল ব্যাগ ও চকলেট।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতী ঘোষ বলেন, এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। তাঁর দাবি, আগের সরকার আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য বহু প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই অনুযায়ী কাজ হয়নি। ভারতের প্রাচীনতম জনজাতিগুলির অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায় এখনও যে মাত্রায় উন্নয়ন পাওয়ার কথা ছিল, সেই মাত্রায় উন্নয়ন পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপি সরকার আদিবাসীদের পাশে রয়েছে এবং তাঁদের সার্বিক উন্নয়নে সবরকম সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন ভারতী ঘোষ।

এদিন লালগড় এলাকায় অবৈধ বালি পাচার নিয়েও সরব হন তিনি। ভারতী ঘোষ বলেন, অনুষ্ঠানে আসার পথে তিনি দেখেছেন ভারী ভারী বালি বোঝাই গাড়ি চলাচলের কারণে এলাকার রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রামগড় ও সংলগ্ন এলাকার বহু সংখ্যক আদিবাসী মহিলা ও পুরুষের অংশগ্রহণে খাস জঙ্গল ফুটবল মাঠে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। আদিবাসী সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হয় বিশ্ব আদিবাসী দিবস।