কোচবিহার-শিলিগুড়ি চোরাই সোনা চক্রের পর্দাফাঁস, আরও জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

কোচবিহারে এক নামী চিকিৎসকের বাড়ি থেকে মূল্যবান সোনার গয়না চুরির ঘটনায় আন্তর্জাতিক বা আন্তঃজেলা চোরাই সোনা কারবারের নতুন যোগসূত্র সামনে এল। ঘটনার তদন্তে নেমে শিলিগুড়ির আশিঘর এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম সুমন মণ্ডল। তিনি আশিঘরের নরেশ মোড় এলাকার পরিচিত ‘সোনাই জুয়েলার্স’-এর কর্ণধার মুক্তা মণ্ডলের ছেলে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কোচবিহারে এক চিকিৎসকের বাড়ি থেকে প্রচুর সোনার গয়না চুরি যায়। ঘটনায় চিকিৎসকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে কোচবিহার থানার পুলিশ প্রথমে মূল চুরিতে যুক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই শিলিগুড়ির আশিঘরের জুয়েলারি দোকানের নাম উঠে আসে।

এর ভিত্তিতেই সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশের সহযোগিতায় কোচবিহার থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে সুমন মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, চোরাই সোনা কেনাবেচা ও তা হস্তান্তরের সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

“ধৃতরা আগেও একাধিকবার চোরাই সোনা কেনাবেচার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। এই চুরির চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতকে কোচবিহারে নিয়ে গিয়ে হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে।”

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, এই চক্রে যুক্ত থাকা বাকি দু’জন অভ্যাসগত অপরাধী এবং এর আগেও তারা একাধিকবার চোরাই সোনা কেনাবেচার অপরাধে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। ধৃত সুমন মণ্ডলকে মঙ্গলবার কোচবিহার আদালতে পেশ করা হবে।

চোরাই সোনা উদ্ধারের স্বার্থে পুলিশ এখনও সোনার সঠিক পরিমাণ প্রকাশ না করলেও, শিলিগুড়ি ও কোচবিহারের জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে এই ধরণের বেআইনি কারবারের পর্দাফাঁস হওয়ায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।