চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের ছেলেমেয়েদের সুস্থ রাখতে যোগচর্চার আয়োজন, ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে বিশেষ কর্মসূচি

আসন্ন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে আয়োজন করা হল বিশেষ যোগাভ্যাস কর্মসূচি। চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের ছেলে-মেয়েদের সুস্থ ও সবল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। চা বাগানের হাসপাতাল চত্বরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় বহু ছাত্রছাত্রী, শ্রমিক পরিবার এবং চা বাগান কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার, সরকারি আধিকারিক, চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। যোগ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে উপস্থিত ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন ধরনের যোগব্যায়াম শেখে এবং অংশগ্রহণ করে।

রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার বলেন, বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চা বাগান এলাকাগুলিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, চা বাগান শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে এখনও অনেক অভাব-অনটন রয়েছে। সেই কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং অনেক রোগব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যায়। তাই ছোটবেলা থেকেই শ্রমিক পরিবারের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যোগাভ্যাসের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের চা বলয় শুধু রাজ্যের নয়, দেশের অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই এলাকার শ্রমিক পরিবারগুলির সন্তানদের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য যোগব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকার চায় তারা যেন শারীরিকভাবে সুস্থ থেকে ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারে। জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের ম্যানেজার উত্তম বৈষ্ণব বলেন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আগেই এই কর্মসূচির মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বিধায়কের উপস্থিতির জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, “হেলথ ইজ ওয়েলথ”— শরীর ভালো থাকলে সবকিছুই ভালো থাকে। আর ভালো স্বাস্থ্য বজায় রাখতে যোগাভ্যাস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের কিশোরী নিকিতা ওঁরাও জানায়, যোগচর্চা  করতে পেরে তাদের খুব ভালো লেগেছে। সে বলে, শরীর ভালো রাখার জন্যই তাদের যোগ শেখানো হয়েছে। সামনে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এই কর্মসূচি হওয়ায় তারা খুবই খুশি। নিকিতা জানায়, তার বাবা-মা দুজনেই চা বাগানের শ্রমিক এবং ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগান এলাকাতেই তাদের বাড়ি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই জানান, বর্তমানে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তির কারণে শিশু-কিশোরদের শারীরিক পরিশ্রম অনেক কমে গেছে। ফলে ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যোগাভ্যাস শিশুদের সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। চা বাগান এলাকার বহু ছেলে-মেয়ে খেলাধুলা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছে। তাই তাদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে এই ধরনের উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

বিধায়ক দীনেশ সরকার জানান, বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে শুধু ডেঙ্গুয়াঝাড় নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগান এলাকাতেও এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া শ্রমিক ও জনজাতি পরিবারের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক চা বাগান শ্রমিক পরিবারের সন্তান নিয়মিত যোগাভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং সুস্থ জীবনযাপনের পথে এগিয়ে যাবে। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আগে ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। অংশগ্রহণকারী থেকে শুরু করে চা বাগান কর্তৃপক্ষ, সকলেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক শ্রমিক পরিবারের ছেলে-মেয়েরা যোগাভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত হবে বলেই আশা প্রকাশ করা হয়েছে।