খড়্গপুর আইআইটি চত্বরে আবারও শোকের ছায়া। গত ১০ দিনের ব্যবধানে ফের এক ছাত্রের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল আইআইটি ক্যাম্পাসে। মঙ্গলবার সকালে প্রতিষ্ঠানের ‘মদনমোহন মালব্য হল’ থেকে ২২ বছর বয়সী এক এমটেক পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ছাত্রের নাম সোহম হালদার। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের শালবাগান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও আইআইটি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই ছাত্রের হলের ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীদের খবর দেওয়া হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে সোহমের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে দ্রুত বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার ঠিক ১০ দিন আগেই অর্থাৎ গত ১৮ এপ্রিল খড়্গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসের ‘অটল বিহারী বাজপেয়ী হল’ থেকে ঝাঁপ দিয়ে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল। মৃত ওই ছাত্রের নাম জয়বীর সিংহ ডোডিয়া (২১), যিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং আহমদাবাদের ঘুমা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
গত বছরের খড়্গপুর আইআইটি-র পরিসংখ্যান বলছে, এক বছরে মোট সাতজন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল। পরপর এমন ঘটনায় ছাত্রমহলে এবং অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ সোহমের মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত শুরু করেছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। একের পর এক ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় আইআইটি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও এখন নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
