দক্ষিণবঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবল আশঙ্কা। বুধবার রাতে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া এবং সেই সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতা-সহ মোট পাঁচটি জেলায় লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের বুলেটিন অনুযায়ী, কলকাতা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই দুর্যোগের প্রভাব সবথেকে বেশি পড়বে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই শহরের বিস্তীর্ণ অংশে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, সঙ্গে চলছে ঘনঘন বজ্রপাত। কোথাও কোথাও বৃষ্টির তীব্রতা এতটাই বেশি যে দৃশ্যমানতা কমে এসেছে। ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার জোড়া প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদগণ।
বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পরেও বহু জায়গায় ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ এই দুর্যোগে ভোটকর্মী এবং সাধারণ ভোটাররা চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাইনে থাকা প্রত্যেকেই ভোট দিতে পারবেন। তবে আবহাওয়া দফতর রাত ৮টার বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, রাত বাড়লে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির তেজ আরও বাড়বে। সাধারণ মানুষকে এই সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং খোলা মাঠ বা জলাশয়ের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের চিত্রও একই রকম উদ্বেগজনক। হিমালয় পাদদেশ সংলগ্ন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ের জেলাগুলিতে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে মৎস্যজীবীদের আগামী ৩ মে পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে এই দুর্যোগের একটি ইতিবাচক দিক হলো তাপমাত্রার পতন। প্রচণ্ড দাবদাহের পর এই বৃষ্টিতে বুধবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে, যা সাধারণ মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। যদিও ঝড়ের গতিবেগ বেশি থাকায় গাছ ভেঙে পড়া বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো বিপত্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
