“পণ্ডিতদের জন্য ভোট, কংগ্রেসের জন্য জনগণ”: আসামের আশাবাদের মাঝে এক্সিট পোল খারিজ করলেন গৌরব গগৈ

সাম্প্রতিক নির্বাচনী পূর্বাভাসের বিরুদ্ধে এক দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা গৌরব গগৈ সর্বশেষ এক্সিট পোলগুলোকে নিছক “টেলিভিশন বিতর্কের খোরাক” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং আসাম জুড়ে কংগ্রেসের বিজয়ের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। ২ মে, ২০২৬ তারিখে গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় লোকসভার বিরোধী দলের উপনেতা যুক্তি দেন যে, পেশাদার জরিপকারীরা প্রায়শই গ্রামীণ ভোটারদের নীরব অন্তঃস্রোত এবং চা বাগান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট উদ্বেগগুলো ধরতে ব্যর্থ হন। গগৈয়ের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন বেশ কয়েকটি প্রধান সংবাদমাধ্যম শাসক দল বিজেপি-এজিপি জোটের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ব্যবধানের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে গেরুয়া দলের “ডাবল ইঞ্জিন” আখ্যানটি মূলত অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তবে, গগৈ পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন যে মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি দাবি করেন যে “জান কি বাত” (জনগণের কণ্ঠস্বর) ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং স্থানীয় পরিচয়ের বিষয়গুলিতে মনোনিবেশ করছে, যা ডেটা মডেল দ্বারা পরিমাপ করা যায় না।

গগৈ জোর দিয়ে বলেছেন যে, আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে কংগ্রেসের কৌশলগত জোট ২০২১ সালের তুলনায় আরও কার্যকরভাবে সরকারবিরোধী ভোটকে সুসংহত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটের শেষ পর্যায়ে—বিশেষ করে নিম্ন আসামে—ভোটের উচ্চ হার স্থিতাবস্থার পক্ষে জনরায় নয়, বরং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই ইঙ্গিত দেয়। গগৈ মন্তব্য করেন, “আমরা বিহার, ছত্তিশগড় এবং পশ্চিমবঙ্গে এই এক্সিট পোলগুলোকে বারবার ব্যর্থ হতে দেখেছি; এগুলো সত্যের জন্য নয়, টিআরপি-র জন্য তৈরি করা হয়।” তিনি দলীয় কর্মীদের গণনা কেন্দ্রে সতর্ক থাকতে এবং “গণমাধ্যম-চালিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে” প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান। রাজ্য যখন আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে, তখন গগৈয়ের এই উচ্চাভিলাষী আশাবাদ একটি উত্তেজনাপূর্ণ গণনার দিনের মঞ্চ তৈরি করেছে এবং তাকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কংগ্রেসের সম্ভাব্য পুনরুত্থানের প্রধান স্থপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার আত্মবিশ্বাস বাস্তবসম্মত হোক বা নিছক মনোবল বাড়ানোর কৌশলই হোক, ‘টেলিভিশনে প্রচারিত বয়ানের’ কাছে নতি স্বীকার না করার তার এই মনোভাব রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে শেষবারের মতো এক নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে।