প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব জগতের প্রাসঙ্গিকতা এবং ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতার সংযোগ স্থাপনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গোকুলা এডুকেশন ফাউন্ডেশন (মেডিকেল) নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি শীর্ষস্থানীয় সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অ্যাট আলবানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেঙ্গালুরুতে রামাইয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (RISM) নামে একটি ডিমড্-টু-বি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছে। গোকুলা এডুকেশন ফাউন্ডেশনের অধীনে রামাইয়া ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস, রামাইয়া মেডিকেল কলেজ এবং রামাইয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল পরিচালিত হয়। নতুন RISM বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এখন গোকুলা পরবর্তী প্রজন্মের STEM ও ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিকল্পনা, গবেষণা এবং বাস্তব জগতের প্রয়োগের উপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডযুক্ত ও শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষা প্রদান করবে- যা শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের জন্য করে তুলবে প্রস্তুত। ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের প্রথম শিক্ষাবর্ষ শুরু করবে।
শিক্ষা, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবায় ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বজায় রাখা শ্রেষ্ঠত্বের উপর ভিত্তি করে, গোকুলা এডুকেশন ফাউন্ডেশন (মেডিকেল) RISM-এর মাধ্যমে তার অভিজ্ঞতাকে প্রসারিত করছে এবং বিশ্বে প্রথম, শিল্প-সংযুক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে নতুনভাবে কল্পনা করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকছে ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবসা এবং বিজ্ঞান শাখায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরাল প্রোগ্রাম। এখানকার প্রাথমিক প্রোগ্রামগুলির মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে বি.টেক, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল সায়েন্স। পাশাপাশি থাকবে বিবিএ এবং এমবিএ প্রোগ্রাম। এখানকার শিক্ষাব্যবস্থা শিল্প এবং অ্যাকাডেমিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি পাঠ্যক্রমের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত- যেখানে আন্তঃবিভাগীয় শিক্ষা, শিল্পসংস্থার স্পনসরশিপে চলা সেন্টার অফ এক্সিলেন্স এবং ইন্টার্নশিপ, লাইভ প্রজেক্ট ও ক্যাপস্টোন অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে বাস্তব জগতের দক্ষতা তৈরির জন্য হাতে-কলমে অভিজ্ঞতাকে সমন্বিত থাকবে।
RISM-এ “প্রাসঙ্গিকতা” শুরু থেকেই একটি সমন্বিত ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনাভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রতিটি কোর্সে প্রথম থেকেই বাস্তব শিল্পক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা যুক্ত থাকবে- যাতে শিক্ষণ প্রক্রিয়া ব্যবহারিক ও ফলাফলমুখী হয়। শিক্ষার্থীরা প্রতিটি বিভাগে আনুষ্ঠানিক শিক্ষক পদে নিযুক্ত বরিষ্ঠ শিল্প নেতাদের মধ্য থেকে ‘মেন্টর প্রফেসর’ ও ‘প্রফেসর অফ প্র্যাকটিস’-দের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন- যা এই ধরনের প্রথম মডেল হতে চলেছে। পরিপূরক হিসেবে, প্রায়োগিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৈক্ষিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে, যা পাঠ্যক্রমের নকশা এবং বাস্তব প্রভাব—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চলেছে। এই সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে RISM এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব প্রেক্ষাপট, শিক্ষাগত দৃঢ়তা এবং প্রায়োগিক গবেষণা সম্মিলীত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোকুলা এডুকেশন ফাউন্ডেশন (মেডিকেল)-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার শ্রী গুরুচরণ গোল্লেরকেরি বলেন, “আমরা এমন এক দ্রুত পরিবর্তনশীল, গভীরভাবে আন্তঃসংযুক্ত বৈশ্বিক পরিবেশে কাজ করছি যেখানে বিভিন্ন শাখা, শিল্পক্ষেত্র এবং ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যকার সীমানা দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই নতুন বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে প্রচলিত শিক্ষা মডেলগুলি আর যথেষ্ট নয়। RISM-এর মাধ্যমে আমরা এমন একটি বাস্তুতন্ত্র নির্মাণ করে এই পরিবর্তনের মোকাবিলা করছি- যা প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং প্রায়োগিক শিক্ষাকে একীভূত করে এবং বাস্তব জগতের কার্যকারিতা ও বিবর্তনের প্রতিফলন ঘটায়। যদিও চাকরির বাজারের প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমাদের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো মৌলিক জ্ঞান, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং শিক্ষণের ক্ষেত্রে ক্ষিপ্রতাকে শক্তিশালী করা। এর মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু আজকের চাকরির জন্যই নয়, বরং এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুত করতে চাই- যেখানে ক্রমাগত শেখা এবং মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই সাফল্যের নির্ধারক হয়ে উঠতে চলেছে।”
