তীব্র গরমে আধ্যাত্মিক স্বস্তির বার্তা নিয়ে ইস্কনের চন্দন যাত্রা উদযাপন মায়াপুরে

বিশ্বজুড়ে চলা গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝে মানুষের মনে শান্তি ও স্বস্তি এনে দিতে শ্রীধাম মায়াপুরে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী ‘চন্দন যাত্রা মহা মহোৎসব’। ইস্কনের সদর দপ্তর মায়াপুর সহ বিশ্বব্যাপী ইস্কনের সমস্ত শাখা কেন্দ্রে মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে ২১ দিন ব্যাপী পুণ্য এই উৎসব। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ৫০০ বছরের পুরোনো ইতিহাস। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু স্বয়ং পুরীর নরেন্দ্র সরোবরে রাধা মদনমোহনকে নিয়ে চন্দন যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই প্রাচীন ঐতিহ্য মেনেই আজও ভক্তিভরে পালিত হয় এই মহোৎসব।

মায়াপুরের মূল রাধা-মাধব মন্দির থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারাণীকে বর্ণাঢ্য সংকীর্তন শোভাযাত্রা সহকারে শ্রীল প্রভুপাদ পুষ্প সমাধি মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে এক সুসজ্জিত নৌকায় ভগবানকে স্থাপন করে চলে নৌকাবিহার। আরতি, সুমধুর কীর্তন, নাচ-গান এবং চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে গোটা ইস্কন প্রাঙ্গণ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত এই মহোৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

গ্রীষ্মের এই প্রখর তাপে ভগবানকে শীতল রাখতে এবং তাঁকে আনন্দ প্রদান করতেই ভক্তরা ভগবানের সর্বাঙ্গে সুগন্ধি চন্দন লেপন করেন। এই চন্দন লেপনের প্রথা থেকেই উৎসবের নাম হয়েছে ‘চন্দন যাত্রা’। ইস্কন কর্তৃপক্ষের মতে, বিশ্বের এই উষ্ণতা ও দাবদাহের মধ্যে সকলের মনে আধ্যাত্মিক শান্তি, স্বস্তি ও আনন্দ এনে দেওয়াই এই উৎসবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।২১ দিন ধরে চলবে আনন্দমুখর এই মহোৎসব। যারা এখনও এই উৎসবে সামিল হতে পারেননি, তাঁদের সকলকে ইস্কনের তরফ থেকে চন্দন যাত্রায় অংশগ্রহণের সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইস্কন মায়াপুরের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস।