‘এক পেড় মা কে নাম’ বার্তায় স্কুলে গাছ লাগালেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা, পড়ুয়াদের পরিবেশ শপথ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার শিলিগুড়ির শ্রী গুরু বিদ্যামন্দিরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কেন্দ্র সরকারের ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি মহকুমাশাসক (এসডিও) বিকাশ রুহেলা, উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জে ভি, দার্জিলিং জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম)-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ও বনদফতরের আধিকারিক। তাঁদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন আধিকারিকের পরিবারের সদস্যরাও। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে এসডিও বিকাশ রুহেলার পরিবারের উপস্থিতি। এদিন মোট ৫০টি চারাগাছ নিয়ে আসা হয়। তার মধ্যে ২০টি গাছ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের হাত ধরে রোপণ করা হয়।

বাকি ৩০টি গাছ স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলি স্কুল প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অংশে রোপণ করা যায়। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব নিয়েও পড়ুয়াদের সচেতন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন, কাউন্সিলর বিবেক সিং-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বনদফতর ও স্কুল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই কর্মসূচি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জে ভি জানান, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে প্রায় এক কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র গাছ লাগালেই হবে না, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণও সমানভাবে জরুরি। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বলেন, “গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলিকে রক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই স্কুলের চারপাশে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ও দেওয়াল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে লাগানো গাছগুলি নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে। এছাড়াও যে সমস্ত জায়গায় গাছ লাগানো হবে, সেখানে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও নিশ্চিত করা হবে।” অনুষ্ঠানের শেষে পড়ুয়ারা পরিবেশ রক্ষার শপথ নেয়। বনদফতরের আধিকারিকরা জানান, পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলেই সবুজ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সেই বার্তাই তুলে ধরল শ্রী গুরু বিদ্যামন্দিরের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।