এআই সংক্রান্ত প্রতিভায় জোর কগনিজ্যান্টের, ১৫,০০০ ‘ফ্রন্টিয়ার-প্রত্যয়িত’ পেশাদার তৈরির পরিকল্পনা

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে এক উচ্চাভিলাষী কর্মীবাহিনী তৈরির স্ট্র্যাটেজি ঘোষণা করেছে কগনিজ্যান্ট। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘ফ্রন্টিয়ার’ ট্যালেন্ট পুলে ৫,০০০ ফ্রন্টিয়ার সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ার এবং ১০,০০০ ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নাসডাক-রেজিস্টার্ড এই প্রযুক্তি পরিষেবা সংস্থাটি জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এআই-নির্ভর মেধাবীদের সরাসরি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের চতুর্থ কোয়ার্টারের মধ্যেই ফ্রন্টিয়ার-প্রত্যয়িত প্রথম ব্যাচটি কাজের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।
সংস্থার মতে, এআই-এর প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা এবং বর্তমানে এন্টারপ্রাইজগুলোর বাস্তরের ব্যবসায়িক ভ্যালুর মধ্যে আনুমানিক ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের যে ব্যবধান রয়েছে, এই উদ্যোগটি তা পূরণ করবে। কগনিজ্যান্টের ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কফোর্স মডেলটি এআই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে কর্মক্ষম দক্ষতাকে একত্রিত করে। এর ফলে পেশাদাররা ব্যবসায়িক ফলাফলের দায়বদ্ধতা বজায় রেখেই এআই সিস্টেমের ডিজাইন, মোতায়েন এবং পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। এই ক্লাউড-অ্যাগনস্টিক মডেলটি ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক, মাইক্রোসফট, গুগল, এডব্লিউএস, এনভিডিয়া, সেলসফোর্স এবং সার্ভিসনাও-এর মতো শীর্ষস্থানীয় এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন এন্টারপ্রাইজ ইকোসিস্টেমকে সাহায্য করবে।
চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার রবি কুমার এস. বলেন, এন্টারপ্রাইজগুলোর এখন এমন পেশাদারদের প্রয়োজন যারা শিল্প-নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ বোঝেন এবং কেবল প্রযুক্তি প্রয়োগ করার পরিবর্তে পরিমাপযোগ্য ফলাফল এনে দিতে পারেন। চিফ পিপল অফিসার ক্যাথি ডিয়াজ জানান, এআই কাজের ধরনকে নতুন রূপ দিয়েছে, যার জন্য একটি নতুন কর্মীবাহিনী কাঠামোর প্রয়োজন। অন্যদিকে, চিফ লার্নিং অফিসার তিরু আরোহি বলেন যে, একটি স্কেলযোগ্য ট্যালেন্ট পাইপলাইন তৈরি করতে সংস্থাটি অ্যাকাডেমি, সার্টিফিকেশন পাথওয়ে এবং দায়িত্বশীল এআই প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করছে।
কলকাতায় এই ঘোষণাটি শহরের ক্রমশ বাড়তে থাকা আইটি এবং ব্যবসায়িক পরিষেবা ইকোসিস্টেমে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে এআই-দক্ষ পেশাদারদের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। পূর্ব ভারত জুড়ে বিভিন্ন সংস্থা যখন ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে, তখন কগনিজ্যান্টের এই ব্যাপক আকারের এআই প্রতিভা বিকাশ প্রকল্প নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক প্রযুক্তিগত মেধার ভিত্তি মজবুত করবে এবং যেসব ব্যবসা তাদের এআই বিনিয়োগ থেকে পরিমাপযোগ্য রিটার্ন পেতে চাইছে, তাদেরও সাহায্য করবে।