এ বছর দেশে বর্ষার বৃষ্টিতে বড়সড় ঘাটতির আশঙ্কার কথা জানাল মৌসম ভবন। শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মরসুমে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টি হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত ‘এল নিনো’-র প্রভাবে জুন মাসও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা আবহবিদদের।
মৌসম ভবনের হিসাব বলছে, এ বছর ঘাটতিপূর্ণ বর্ষার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ। স্বাভাবিকের কম বৃষ্টির সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ, স্বাভাবিক বর্ষার সম্ভাবনা ১৪ শতাংশ এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বর্ষার সম্ভাবনা মাত্র ২ শতাংশ। অতিরিক্ত বর্ষার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
তবে এই পূর্বাভাসে দেশের কৃষিক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর কৃষিজমিগুলিতে ফসল উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অংশে খরার পরিস্থিতি এবং পানীয় জলের সঙ্কটও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর উত্তর-পূর্ব ভারতে বর্ষা মোটের উপর স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর-পশ্চিম ভারতের কয়েকটি অংশেও বর্ষা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ দিকে, কেরলে এখনও বর্ষা প্রবেশ না করায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা ঢোকে। কিন্তু ২৬ মে পর্যন্ত বর্ষা সেখানে প্রবেশ করেনি বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। আগামী ৪ জুন পর্যন্ত কেরলে মূলত শুকনো আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও জুন মাসে দেশের একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার, গুজরাত, ছত্তিশগড় এবং অন্ধ্রপ্রদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপপ্রবাহ হতে পারে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা, হিমাচলপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর কিছু অংশেও অতিরিক্ত গরমের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে মৌসম ভবন।
