স্বাদেও সেরা, স্বাস্থ্যেও ভরসা গরমে ট্রেন্ডিং বাঙালির চিরপরিচিত ‘তালশাঁস’

তীব্র গরমে যখন ওপার বাংলার পারদ চড়ছে, তখন কলকাতার বাজার থেকে শুরু করে ইনস্টাগ্রামের রিলস— সর্বত্রই এখন ট্রেন্ডিং ‘তালশাঁস’। তবে বাঙালির কাছে এই ফলের জনপ্রিয়তা নতুন কিছু নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার চটকদার প্রচারের বহু আগে থেকেই গ্রীষ্মের তপ্ত সকালে পাড়ার মোড়ে মোড়ে তালশাঁসের গাড়ি এক চেনা ছবি। কালো, গোল পাম ফলের শক্ত খোলসটি কেটে যখন ভেতরের নরম, স্বচ্ছ জেলি-সদৃশ অংশটি বের করে আনা হয়, তখন তা চাতক পাখির মতো তৃষ্ণার্ত মানুষের মন জয় করে নেয়।

নরম, হালকা মিষ্টি এবং ঠাণ্ডা রসে ভরপুর এই ফলটি কেবল সুস্বাদু নয়, বরং এই আর্দ্র গরমে শরীরের জন্য এক মহৌষধ। অনেকে একে ডাবের শাঁসের সঙ্গে তুলনা করেন, আবার আধুনিক দুনিয়ায় এর নাম ‘আইস অ্যাপেল’। পুষ্টিবিদদের মতে, তীব্র গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে তালশাঁসের জুড়ি মেলা ভার। এতে প্রচুর পরিমাণে জল এবং প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটস রয়েছে। এছাড়া সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকায় এটি শরীরের খনিজের ঘাটতি পূরণ করে ক্লান্তি দূর করে। শুধু তাই নয়, পেটের সমস্যা, বদহজম ও অ্যাসিডিটি কমাতেও এটি দারুণ কার্যকরী।

বাজারে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায় পাওয়া এই ফলটি কেনার সময় একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, খুব বেশি শক্ত বা বড় তালশাঁস না কিনে, কিছুটা নরম ও ছোট আকারের ফল বেছে নেওয়া উচিত। কারণ অতিরিক্ত শক্ত শাঁস চিবানো কঠিন এবং তার ভেতরের মিষ্টি রসও শুকিয়ে যায়। বর্তমানে সাধারণ ফলের থালা পেরিয়ে বিভিন্ন ডেজার্ট বা মকটেলের অংশ হয়ে উঠেছে এই ঐতিহ্যবাহী ফল। তাই গরমের এই মরসুমে সুস্থ থাকতে ও জিভের স্বাদ বদলাতে আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে আজই যুক্ত করুন পুষ্টিগুণে ভরপুর এই প্রাকৃতিক উপহার।