জলবায়ু পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বসন্ত, বাড়ছে দীর্ঘ গ্রীষ্মের আশঙ্কা

দেশজুড়ে ঋতুচক্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারের আবহাওয়া। শীত শেষ হতেই বসন্তের স্বাভাবিক সময় না পেরিয়েই সরাসরি গরমের দাপট শুরু হয়ে গেছে। ফলে প্রকৃতিতে শিমুল-পলাশ ফুটলেও সেই পরিচিত মৃদু বসন্তের আবহ আর অনুভূত হচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই দেশের বেশিরভাগ জায়গায় শীত বিদায় নিয়ে গ্রীষ্মের আগমন ঘটেছে। বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তর ভারতে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অনেক জায়গায় হঠাৎ করেই তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। যেমন, মুম্বইয়ে মার্চের শুরুতেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।
উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল ও দিল্লি-সংলগ্ন এলাকাতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি বেশি। শুধু দিনের গরম নয়, রাতের তাপমাত্রাও বাড়ছে, ফলে মানুষের শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছে না। মহারাষ্ট্রের কিছু অংশেও ইতিমধ্যে তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন শুধু অস্থায়ী নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যার ইঙ্গিত। বসন্ত ছোট হয়ে যাওয়ার মানে হলো গ্রীষ্ম আরও দীর্ঘ ও তীব্র হবে। এতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, জলসম্পদ ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পশ্চিমবঙ্গেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও এ বছর কিছুটা বসন্তের প্রভাব ছিল, তবে তা খুবই সীমিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ার ফলে রাজ্যে গরম ও আর্দ্রতা দুই-ই বাড়ছে। এতে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় গরমের অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দিন তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। এর ফলে কৃষিক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফসল উৎপাদন ও ফুল ফোটার স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হতে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো বিশ্ব উষ্ণায়ন। এমনকি প্রাকৃতিক আবহাওয়ার চক্র যেমন ‘লা নিনা’ থাকলেও তা তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ঠেকাতে পারছে না।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতির এই পরিবর্তন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ঋতুর স্বাভাবিক ছন্দ বদলে যাচ্ছে। বসন্ত ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, আর তার জায়গা নিচ্ছে দীর্ঘ, তীব্র গরমের সময়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।