নাসিক টিসিএস-এ হয়রানির অভিযোগ: ‘চরম উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক শাখায় সাম্প্রতিক কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। নাসিক ইউনিটে কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ এবং অশোভন আচরণের যে সব দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে, তাকে ‘চরম উদ্বেগজনক’ (Gravely Concerning) বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। চন্দ্রশেখরন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, টাটা গ্রুপের সংস্কৃতিতে কর্মীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা সবার আগে, এবং এই ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নাসিক ইউনিটের প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ইতিমধ্য়েই কাজ শুরু করেছে এবং কর্মীদের একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে যে, নাসিক শাখায় কাজ কমানো বা পারফরম্যান্সের অজুহাতে কিছু কর্মীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে এবং তাদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। নাসিক আইটি এমপ্লয়িজ রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় শ্রম দপ্তরেরও নজরে আসে। এন চন্দ্রশেখরনের এই সরাসরি হস্তক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কর্মীরা, কারণ এটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায় থেকে পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। আইটি শিল্পে কাজের অত্যধিক চাপ এবং সেই সাথে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের যে বিতর্ক রয়েছে, এই ঘটনাটি তাকে আবারও সামনে নিয়ে এল। টাটা গ্রুপের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান যখন নিজেই একে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, তখন তা পুরো করপোরেট জগতের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করে। চন্দ্রশেখরন আরও যোগ করেন যে, টিসিএস-এর মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।