সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম এবং প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের জনভিত্তি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে এখন কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মেরুকরণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একসময়ের সর্বভারতীয় এই শক্তিশালী দলটি এখন আসাম ও বাংলার সমতলে কেবল মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি এবং আঞ্চলিক দলগুলোর উত্থানের ফলে হিন্দু ও অন্যান্য জাতিসত্তার ভোট কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়েছে, যার ফলে দলটি এখন অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি ভোটব্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আসামে এআইইউডিএফ-এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এই মুসলিম ভোটব্যাংকেও ফাটল ধরেছে, যা কংগ্রেসের জন্য এক অস্তিত্ব সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উভয় রাজ্যেই কংগ্রেসের জয়ের হার এখন প্রধানত মুসলিম প্রধান জেলাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আসামের বরাক উপত্যকা এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো এলাকাগুলোতেই দলটির যা কিছু শক্তি অবশিষ্ট রয়েছে। এর বাইরে বৃহত্তর জনসমষ্টির কাছে পৌঁছাতে না পারা এবং শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাব কংগ্রেসকে একটি প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি দলটি দ্রুত তাদের ধর্মনিরপেক্ষ এবং সর্বজনীন আবেদন পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তবে কেবল এই নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে বেশিদিন টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আসাম ও বাংলার রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা অদূর ভবিষ্যতে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
