যুদ্ধের পদধ্বনি: হায়দ্রাবাদে কি তবে আতঙ্কিত কেনাকাটার হিড়িক?

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার এসে লাগল ভারতের অন্যতম প্রধান শহর হায়দ্রাবাদে। গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল, ডাল, ভোজ্য তেল এবং জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক বাসিন্দা আগেভাগেই অতিরিক্ত কেনাকাটা বা ‘প্যানিক বায়িং’ শুরু করেছেন। শহরের বড় বড় সুপারমার্কেট এবং স্থানীয় বাজারগুলোতে গত ৪৮ ঘণ্টায় উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে পণ্য সংকট দেখা দিতে পারে, তাই তারা অন্তত আগামী কয়েক মাসের রসদ মজুত করে রাখছেন।

বাজার পরিস্থিতির এই আকস্মিক পরিবর্তনে খুচরো বিক্রেতারাও কিছুটা হিমশিম খাচ্ছেন। হায়দ্রাবাদের সেকেন্দ্রাবাদ এবং চারমিনার সংলগ্ন পাইকারি বাজারগুলোতে চাল ও আটা সংগ্রহের ধুম পড়ে গেছে। অনেক জায়গায় দেখা গেছে, মানুষ লিটার লিটার ভোজ্য তেল এবং টিনজাত খাবার কিনে বাড়ি ফিরছেন। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম অভাব তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, হায়দ্রাবাদে বা দেশের অন্য কোথাও নিত্যপণ্যের কোনো অভাব নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য না কেনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই মজুতদারি রুখতে টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে এবং বাজারগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের আতঙ্কিত কেনাকাটা আদতে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং সাধারণ মধ্যবিত্তের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বাড়ার একটি সম্ভাবনা থাকলেও, সরকার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। হায়দ্রাবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গুজব ছড়ানোর দায়ে কয়েকজনকে চিহ্নিতও করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও মানুষের মনে দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটেনি, যার প্রতিফলন ঘটছে শহরের বাজারগুলোর লম্বা লাইনে। যুদ্ধের মেঘ না কাটলে এই আতঙ্ক পুরোপুরি থিতিয়ে যাবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।