ভারতের আগামী ২০২৭ সালের জনশুমারি বা আদমশুমারিতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নীতি অনুযায়ী, যেসব দম্পতি দীর্ঘকাল ধরে একসাথে বসবাস করছেন বা ‘স্থিতিশীল’ লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন, তাদেরকে এই গণনায় ‘বিবাহিত’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং আধুনিক জীবনযাত্রার ধরণকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর আগে আদমশুমারিতে লিভ-ইন দম্পতিদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বিভাগ ছিল না, যার ফলে জনতাত্ত্বিক তথ্যে এক ধরনের অস্পষ্টতা থেকে যেত। নতুন এই নিয়মের ফলে দেশের প্রকৃত পারিবারিক কাঠামোর একটি স্বচ্ছ চিত্র উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘স্থিতিশীল’ সম্পর্কের সংজ্ঞা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। যদি কোনো দম্পতি দীর্ঘ সময় ধরে একই ছাদের নিচে বসবাস করেন এবং সামাজিকভাবে স্বামী-স্ত্রীর মতো পরিচিতি লাভ করেন, তবেই তাদের এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হবে। বিশেষ করে উত্তরসূরি নির্বাচন, সম্পত্তি বন্টন এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে এই তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল একটি পরিসংখ্যানগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করে নেওয়ার একটি বড় প্রমাণ।
তবে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীরা কীভাবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করে এই স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ এবং রক্ষণশীল এলাকাগুলোতে এই নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে সামাজিক বাধার সৃষ্টি হতে পারে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। ২০২৭ সালের এই আধুনিক ডিজিটাল জনশুমারিতে লিভ-ইন দম্পতিদের অন্তর্ভুক্তি ভারতের আইনি ও সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের এই উদ্যোগটি আধুনিক প্রজন্মের জীবনবোধ এবং প্রথাগত পারিবারিক সংজ্ঞার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
