বর্ষায় সাপের কামড়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিএসভি নিয়ে এলো ‘ফোর-এ’ কৌশল

ভারতজুড়ে বর্ষার আসার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সর্পাঘাতের বা সাপের কামড়ের মতো ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়, যা একটি অন্যতম উপেক্ষিত অথচ গুরুতর জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমানের অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (এএসভি) তৈরির নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান এবং ‘ম্যানকাইন্ড গ্রুপ’-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘বিএসভি’, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে একটি সমন্বিত ‘ফোর-এ’ ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে।
এই ফ্রেমওয়ার্কটি মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি অ্যাওয়ারনেস (সচেতনতা), অ্যাক্সেস (সহজলভ্যতা), অ্যাভেলেবিলিটি (প্রাপ্যতা) এবং অ্যাকশন (তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ); যার উদ্দেশ্য হলো সর্পাঘাত প্রতিরোধ করা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলা।
সেক্ষেত্রে গ্রামীণ মানুষের মন থেকে কুসংস্কার দূর করা এবং বিজ্ঞানসম্মত প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করা জরুরী, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা দরকার। গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে মানসম্মত ASV বা সাপের বিষের ওষুধ মজুত রাখার দরকার। আর দরকার সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা, যা প্যারালাইসিস, কিডনি নষ্ট হওয়া, বা মৃত্যুর মতো বড় ঝুঁকি থেকে রোগীকে বাঁচাতে পারে।
বিএসভি-র ইন্ডিয়া বিজনেস-এর সিওও শিবানী শর্মা ডেকা বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্পাঘাতকে একটি ‘নোটিফিয়েবল ডিসিজ’ হিসেবে ঘোষণা করা অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে সর্পাঘাতে মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।”
শান্তিপুর সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. অরিন্দম ভট্টাচার্য জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৫৮,০০০ মানুষ সর্পাঘাতে মারা যান, যা বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক। সর্পাঘাতের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট মূল্যবান। কুসংস্কার দূর করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে পারলে হাজার হাজার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।”
ভারতে সর্পাঘাতের এই সংকট দূর করতে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন ওষুধের জোগান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে প্রতিটি আক্রান্ত মানুষ সঠিক সময়ে জীবনদায়ী চিকিৎসা পান।