দুর্গাপুজোয় ব্যতিক্রমী রীতি! দশমীতে পান্তা খাইয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভট্টাচার্য বাড়ি

সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, বদলায়নি পারিবারিক দুর্গাপুজোর প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য। হাওড়ার আন্দুলের দুইল্যা গ্রামের ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো এ বছর ৪২২ বছরে পদার্পণ করেছে। এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব, সপ্তমী থেকে সকালে দেবীকে দাঁত মাজার জন্য বেলগাছের ডাল ও এক ঘটি জল দেওয়া হয়। আবার দশমীতে পান্তা খাইয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর রীতিও আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের সদস্য দুর্গাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বর্ধমানের রাজাদের পুরোহিত ছিলেন। সেই সূত্রেই তাঁদের পূর্বপুরুষদের এই গ্রামে আগমন। তারপর থেকেই শুরু হয় ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো। দীর্ঘ চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বংশপরম্পরায় পুজোর আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়মকানুন মেনে চলেছেন পরিবারের সদস্যরা।

জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির প্রক্রিয়া। পরিবারের নিজস্ব ঠাকুরদালানে আজও প্রতিমা গড়ার কাজ চলে। পুরনো রীতি মেনেই পুজোর যাবতীয় আয়োজন করা হয়। এটি পারিবারিক পুজো হলেও এলাকার বহু মানুষ এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন এবং দেবীর কাছে পুজো নিবেদন করেন।

পরিবারের মহিলা সদস্য মিতা ভট্টাচার্য জানান, পঞ্চমীর দিন থেকে দেবীর বোধন শুরু হয়। সপ্তমী থেকে প্রতিদিন সকালে দেবীকে দাঁত মাজার জন্য বেলগাছের ডাল ও এক ঘটি জল দেওয়ার রীতি রয়েছে। এরপর দুপুরে রান্না করা ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রতিদিনই দেবীকে পায়েস দেওয়া হয়। সন্ধিপুজো ও নবমীতে বলির প্রথাও রয়েছে।

তবে এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ দশমীর বিশেষ রীতি। সেদিন পান্তা খাইয়ে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। দীর্ঘদিনের এই প্রথা আজও ধরে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি, দশমীর দিন এলাকার বহু মানুষ ভট্টাচার্য বাড়িতে উপস্থিত হন সিঁদুর খেলায় অংশ নিতে।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় পুজোর আয়োজন বদলালেও দুইল্যার ভট্টাচার্য বাড়িতে আজও অটুট রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্য। ৪২২ বছরের এই দুর্গোৎসব শুধু একটি পরিবারের পুজো নয়, এলাকার মানুষের কাছেও তা আবেগ, বিশ্বাস ও মিলনমেলার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।