আগামী দিনের আর্থিক পরিকাঠামোকে বুদ্ধিমান, প্রোগ্রামযোগ্য, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেনএনপিসিআই-এর নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর শ্রী অজয় কুমার চৌধুরী। সপ্তম গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট (GFF) ২০২৬-এ “দ্য আর্কিটেকচার অফ ট্রাস্ট: মুভিং বেয়ন্ড পেমেন্টস ইন্টু ইন্টেলিজেন্স এন্ড প্রোগ্রামেবিলিটি” শীর্ষক আলোচনায় তিনি প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেন।
ইউপিআই-এর ১০ বছর পূর্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৬ সালের আগস্টে ইউপিআই-এর মাধ্যমে ২৪.৫ বিলিয়নেরও বেশি লেনদেন হয়েছে, যার মূল্য ২৯.৮ লক্ষ কোটি টাকা। ৭৫২টি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে হওয়া এই লেনদেনের ফলে ইউপিআই এখন দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিকাঠামো হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে ইউপিআই-কে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।
চৌধুরী ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকাঠামোয় তিনটি পরিবর্তনের কথা বলেন—‘ ইনস্ট্রাকশনস থেকে ইন্টেন্ট’, যেখানে Agentic AI অনুমোদিত সীমার মধ্যে মানুষের উদ্দেশ্য বুঝে কাজ করবে; ‘মুভিং মানি থেকে কোয়ার্ডিনিটিং ভ্যালু’, যেখানে প্রোগ্রামযোগ্যতার মাধ্যমে অর্থ ও সম্পদের লেনদেন নির্দিষ্ট শর্তের সঙ্গে যুক্ত হবে; এবং ‘প্রেজেন্ট সিকিউরিটি থেকে ফিউচার রিসাইলেন্স’, যেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি-র প্রস্তুতি প্রয়োজন।
তিনি এনপিসিআই-এর ওপেন-সোর্স এন্টারপ্রাইজ ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্ম Drunix-এর কথাও উল্লেখ করেন, যা টোকেনাইজেশন, ডিজিটাল অ্যাসেট ইকোসিস্টেম ও বহু সংস্থার নেটওয়ার্ককে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে এ আই, প্রোগ্রাম যোগ্যতা ও আস্থার সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় পুরো আর্থিক ব্যবস্থাজুড়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
সার্বভৌমত্বের ঝুঁকি কমাতে কোনও একটি মডেল, ক্লাউড বা প্রযুক্তি সরবরাহকারীর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ, সক্ষমতা, বিকল্প ও প্রস্তুতি বজায় রাখার উপর জোর দেন তিনি। ইউপিআই-এর যাত্রায় এনপিসিআই, আরবিআই ও ভারত সরকারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে আগামী দিনে আর্থিক প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এনপিসিআই নেতৃত্ব দিয়ে যাবে বলেও জানান চৌধুরী।
