স্বাদে মিষ্টি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল খেজুর। ক্যালোরি ও খনিজে সমৃদ্ধ এই ফল শরীরচর্চা কিংবা তাৎক্ষণিক শক্তির প্রয়োজনে অত্যন্ত কার্যকর। তবে এর প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব বা গ্লুকোজের উপস্থিতির কারণে ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত খেজুর এড়িয়ে চলেন। পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ডায়াবেটিকদের জন্য চিন্তার কারণ। তবে আধুনিক গবেষণা ও পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, সঠিক কৌশল মেনে চললে ডায়াবেটিস রোগীরাও খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখতে পারেন।
গুরুগ্রামের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ অনশূল সিংহের মতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খেজুর এককভাবে না খেয়ে বাদামের সঙ্গে খাওয়া উচিত। কাঠবাদাম, চিনেবাদাম বা আখরোটে থাকা প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খেজুরের শর্করাকে সরাসরি রক্তে মিশতে বাধা দেয়। ফ্যাট ও প্রোটিন ধীরে পরিপাক হয় বলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পায় না।
এছাড়া, শরীরচর্চার আগে বা সময়কালীন খেজুর খাওয়া বেশ উপকারী। দিল্লিনিবাসী পুষ্টিবিদ করুণা চতুর্বেদী জানান, শারীরিক কসরতের সময় শরীরে বাড়তি গ্লুকোজের প্রয়োজন হয়, যা খেজুর থেকে পাওয়া যায়। ফলে সেই শর্করা রক্তে না মিশে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
ফাইবারের ভূমিকাও এক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। খেজুরের নিজস্ব ফাইবার থাকলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হয় না। তাই চিয়া পুডিং, গ্রিক ইয়োগার্ট কিংবা শসা ও গাজরের মতো সালাদের সঙ্গে খেজুর খেলে বাড়তি ফাইবার ‘ছাঁকনি’ হিসেবে কাজ করে। এতে শর্করা শোষণের গতি ধীর হয়ে যায়। মূলত কীসের সাথে এবং কখন খাওয়া হচ্ছে—এই ভারসাম্যের দিকে নজর দিলেই ডায়াবেটিক রোগীরাও নির্ভয়ে খেজুরের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। তবে যেকোনো পরিবর্তনের আগে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
