বন-বন্যপ্রাণ রক্ষা করেই পর্যটনের বিকাশ, লাটাগুড়িতে কড়া বার্তা পর্যটনমন্ত্রীর

বন, বন্যপ্রাণ ও পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হবে। জঙ্গলের ভিতরে বন দপ্তরের আইন লঙ্ঘন করে কোনও ধরনের পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা যাবে না। বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রাক্কালে লাটাগুড়িতে আয়োজিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

পর্যটন ব্যবসায়ী ও পর্যটন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শনিবার লাটাগুড়িতে আয়োজিত হয় এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান। পরিবেশ রক্ষা, বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এদিন প্রায় ছয় কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায়, বিশিষ্ট সমাজসেবী বাপি গোস্বামী, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, পর্যটন ব্যবসায়ী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উপস্থিত ছিলেন পর্যটন ব্যবসায়ী রাজ বসুও।

ম্যারাথন দৌড়ের পাশাপাশি লাটাগুড়িতে একটি প্রকাশ্য সভারও আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বন ও বন্যপ্রাণকে রক্ষা করেই পর্যটনের উন্নয়ন করতে হবে। বন দপ্তরের আইন অমান্য করে কোনও কাজ করা যাবে না। বিশেষ করে জঙ্গলের ভিতরে নতুন করে কোনও রিসোর্ট বা হোমস্টে তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

শঙ্কর ঘোষ জানান, উত্তরবঙ্গে পর্যটনের আরও বিকাশের জন্য একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে পর্যটন দপ্তর। পুজোর আগেও পর্যটনকে ঘিরে একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সেই উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ ও বন-বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উপরই জোর দেন পর্যটনমন্ত্রী।

এদিন লাটাগুড়ি থেকে দুটি বেসরকারি বাস পরিষেবারও উদ্বোধন করেন শঙ্কর ঘোষ। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে লাটাগুড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে পর্যটকদের যাতায়াত এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার প্রসারেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রাক্কালে লাটাগুড়ির এই অনুষ্ঠানে তাই একদিকে যেমন পর্যটনের বিকাশের বার্তা উঠে এসেছে, তেমনই বন ও বন্যপ্রাণ রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট করেছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী।