সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তিন বিল পেশ, আলোচনার কেন্দ্রে মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে পেশ করা হয়েছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তিনটি বিল। এই অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১২ ঘণ্টা আলোচনার পর শুক্রবার এই বিলগুলির ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অধিবেশনকে নারী ক্ষমতায়নের পথে একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, মা ও বোনেদের সম্মান জানানোই দেশকে সম্মান জানানোর নামান্তর। এই আদর্শকে সামনে রেখেই সরকার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে এগোতে বদ্ধপরিকর। তবে বিরোধী শিবির এই বিলের সময়কাল এবং আসন পুনর্বিন্যাসের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্র যে তিনটি বিল পেশ করেছে তার মধ্যে রয়েছে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (মহিলা সংরক্ষণ), লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল।

বিরোধী দলগুলো বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং আরজেডি আসন পুনর্বিন্যাস বিলের তীব্র বিরোধিতা করছে। রাহুল গান্ধী এই পরিকল্পনাকে বিজেপির ‘বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন এই বিলের খসড়া পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, জনগণনার আগেই আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া শুরু করা আসলে আগামী ২০২৯ সালের নির্বাচনে নিজেদের সুবিধা করে নেওয়ার একটি কৌশল। এই বিষয়ে কৌশল নির্ধারণ করতে বুধবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতারা একটি জরুরি বৈঠকেও মিলিত হন।

পাল্টা জবাবে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদের ‘গুজব’ না ছড়ানোর অনুরোধ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, আসন পুনর্বিন্যাসের উদ্দেশ্য নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা উচিত নয় এবং একে নারী সংরক্ষণের পথে বাধা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। যদি এই বিলগুলো উভয় কক্ষে পাশ হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়, তবে ভারতীয় সংসদীয় কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন আসবে। লোকসভার আসন সংখ্যা যেমন বিপুল বৃদ্ধি পাবে, তেমনই সেখানে এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে শুক্রবারের ভোটাভুটির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।