শিলিগুড়ির ডাকাতি রহস্য আরও গভীর: বছরে একটি অপারেশনের ছক ছিল দুষ্কৃতীদের

যেন এক সুপরিকল্পিত ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ! শিলিগুড়ির সাম্প্রতিক ডাকাতির ঘটনায় (Robbery Case) তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের। এই ঘটনায় ধৃত দুই দুষ্কৃতী সাফিক খান ও মহম্মদ সামশাদকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই দলটি বছরে মাত্র একটি ‘সফল অপারেশন’-এ বিশ্বাসী। আর তাতেই দলের সদস্যদের প্রত্যেকের বছরে গড়ে ১০ লক্ষ টাকা ‘রোজগার’ হয়, যা আজকালকার চাকরির বাজারে রীতিমতো ঈর্ষণীয়।

শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিং জানিয়েছেন, “যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে আমরা গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করছি। বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তে পাওয়া সমস্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এই ডাকাতির ঘটনায় দেশের চারটি জায়গার যুক্ত থাকার বিষয়ে জানা গেছে। আমাদের তদন্তকারী দল সেই সমস্ত জায়গায় গিয়ে দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।”

রবিবার শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের একটি নামী গয়নার দোকানে ডাকাতির পর থেকেই এই ‘অপারেশন’ সবার চর্চার বিষয়। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা বছরে একাধিক অপারেশনে মোটেও বিশ্বাসী নয়। বরং, একটি নির্দিষ্ট জায়গাকে চিহ্নিত করে সেখানে মাসের পর মাস রেইকি চালিয়ে কোটি টাকার গয়না লুট করাই তাদের লক্ষ্য। ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, এভাবে অপারেশন চালিয়ে যে আয় হয়, তাতে তাদের পরিবার ভালোভাবেই চলে।

এই গ্যাংটি দেশের নানা প্রান্তে অপারেশন চালালেও কোটি কোটি টাকার গয়না মূলত একজনকেই বিক্রি করে থাকে। সেই ব্যক্তি ভিনরাজ্যের বাসিন্দা এবং পুলিশ সেই বিশেষ ব্যক্তির খোঁজ চালাচ্ছে। মঙ্গলবারই উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এই গ্যাংয়ের সঙ্গে বিহারের এক বাহুবলী রাজনীতিবিদের যোগাযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় দুষ্কৃতীরা নিশ্চিত হয়ে অপারেশন চালায়। লুটপাটের সময় হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও, খুব প্রয়োজন না হলে তারা কারও ওপর গুলি চালায় না বা সেভাবে মারধরও করে না।

আরও অবাক করার মতো তথ্য হল, এই গ্যাংটি নাকি এই তত্ত্বে বিশ্বাসী যে, ধরা পড়লে খুব বেশি হলে কয়েক মাসের কারাবাস হয় এবং তারপর ছাড়া পেয়ে তারা ফের এজাতীয় দুষ্কর্ম করে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, যারা এভাবে কাজ করে তাদের পিছনে পাকা মাথার বহু হিসেবনিকেশ রয়েছে। দলের সদস্যরা এর আগে বিহার, রাজস্থানে এমন দুষ্কর্ম করে ধরা পড়েছিল এবং জেলে গিয়েছিল। এরপর ছাড়া পেয়ে তারা আবার এই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ আরও একটি বিষয়ে নিশ্চিত যে, গ্যাংয়ের মূল পান্ডাই সবচেয়ে বেশি গয়না নিয়ে পালিয়েছে। তবে ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহার করা অন্য বাইকগুলি কোথায়, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনও অন্ধকারে। বাকিরা সবাই মিলে বাইকে করেই ভিনরাজ্যে পালিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।