পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য; ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নেতৃত্বে রদবদল

কলকাতা, ২ জুলাই ২০২৫ — পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদে শমীক ভট্টাচার্যের নিযুক্তি বুধবার কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল, কারণ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।

রাজ্যসভার সদস্য ও বিজেপির প্রাক্তন মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য কলকাতার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিদায়ী সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুখান্ত মজুমদার এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কলকাতার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।

৬১ বছর বয়সি ভট্টাচার্য ২০১৪ সালে উপনির্বাচনে বসিরহাট দক্ষিণ আসন থেকে জয়ী হয়ে রাজ্য বিধানসভায় বিজেপির প্রথম প্রতিনিধি হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত এবং ২০২৪ সাল থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, ভট্টাচার্যের নিযুক্তি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছে এবং তিনি পুরনো ও নতুন কর্মীদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর সুস্পষ্ট বক্তৃতাশৈলী, মিডিয়া দক্ষতা এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে অবস্থান তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।

২০২১ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্বে থাকা সুখান্ত মজুমদার বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। বিজেপির ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির কারণে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল।

ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। বাংলাকে বর্তমান সরকারের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। বিনিয়োগ আনতে হবে, উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনতে হবে রাজ্যকে”।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিজেপি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও আদর্শগত দৃঢ়তা নিয়ে এগোতে পারবে। তাঁর নিযুক্তিকে আরএসএসের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই নেতৃত্ব বদল রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।