দিঘায় নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরে প্রথম রথযাত্রা ঘিরে তুঙ্গে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। প্রশাসন আশা করছে, হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হবে। রথযাত্রার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বুধবারই দিঘায় পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার তিনি জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। মন্দিরের ৭ নম্বর গেট থেকে ৩ নম্বর গেট পর্যন্ত পায়ে হেঁটে রথের মাপ এবং রাস্তার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী – অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তী, এবং হিডকোর ভাইস চেয়ারম্যান।
রথযাত্রার প্রস্তুতি পরিদর্শনের পাশাপাশি এদিন একটি সংক্ষিপ্ত সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি নির্বাচন কমিশনের ‘ডিক্লারেশন ফর্ম’ নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং দিঘা-পুরী নিয়ে চলা বিতর্কের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন।
দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে ওড়িশা সরকারের আপত্তির বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি ওড়িশাকে পছন্দ করি, ওড়িশা থেকে বহু মানুষ দিঘার জগন্নাথ মন্দির দেখতে এসেছেন। আমি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে সম্মান করি, আপনারাও দিঘার মন্দিরকে সম্মান করুন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি শাস্ত্র বুঝি না, মানুষ বুঝি। মানুষই শাস্ত্র তৈরি করে, দিঘায় পুজো করছেন শাস্ত্র জানা লোকেরাই। রাজেশ দৈতাপতি প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় এখানে ছিলেন, তিনি পুরীর একজন দৈতাপতি। ওঁরা আমার নামে এফআইআর করেছে, আমি পাল্টা করিনি, এটাই মহত্ব।”
প্রসঙ্গত, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলেন, দিঘার মন্দিরকে ‘জগন্নাথ ধাম’ নামে যেন না ডাকা হয়। চিঠিতে মোহন চরণ মাঝি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, পুরী জগন্নাথ ধাম শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি ওড়িশার মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের প্রতীক। তাঁর আশঙ্কা ছিল, দিঘার মন্দিরকে ‘জগন্নাথ ধাম’ বলা হলে সাধারণ ভক্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে এবং ওড়িশাবাসীর ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। তিনি তাঁর চিঠিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন, নবনির্মিত দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে ফেললে ভালো হয়। এদিন দিঘা নিয়ে সেই বিতর্কেরই উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
