উচ্চ প্রাথমিক স্তরে কর্মশিক্ষা ও শারীর শিক্ষা নিয়োগে চাকরি বিক্রির অভিযোগ নিয়ে এবার নথিপত্র তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)-কে নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোন নথির ভিত্তিতে তারা এমন অভিযোগ এনেছে, সে বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে, বিচারপতি এসএসসি-কে উচ্চপ্রাথমিক কর্মশিক্ষা ও শারীর শিক্ষা নিয়োগের মেধাতালিকা আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে CBI-কে তাদের অবস্থান এবং এসএসসি-কে মেধাতালিকা পেশ করতে হবে।
বস্তুত, উচ্চ প্রাথমিক বা আপার প্রাইমারির নিয়োগের ক্ষেত্রে (শারীরশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষা) যে অপেক্ষমান তালিকা (waiting list) ছিল, তা থেকে রাজ্যের তরফে সুপার নিউমেরারি বা অতিরিক্ত পদ তৈরি করা হয়। এই নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা হয়। রাজ্য সরকার হাইকোর্টে আবেদন করেছিল যে, স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে সুপার নিউমেরারি পদে বা অতিরিক্ত পদে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হোক। তবে সেই স্থগিতাদেশ এখনও বহাল রয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) এই মামলার শুনানিতে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, সুপার নিউমেরারি পোস্ট শুধুমাত্র চাকরি রক্ষার জন্য হতে পারে, কিন্তু নতুন চাকরি দেওয়ার জন্য নয়। অপরদিকে, CBI যে চার্জশিট পেশ করেছে, সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে কর্মশিক্ষা ও শারীর শিক্ষা পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু মন্তব্য করেন, “উচ্চ প্রাথমিকে কোনও সিবিআই তদন্ত নেই। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই চার্জশিটে দাবি করেছে, টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি হয়েছে কর্মশিক্ষা ও শারীর শিক্ষাতে। সিবিআই নিশ্চয় তদন্ত করতে গিয়ে এমন কিছু নথি বা তথ্য পেয়েছে, তার ভিত্তিতে এমন চার্জশিট দিয়েছে। সেই তদন্তের প্রক্রিয়া এবং নথি, তথ্য আদালত জানতে চায়।” এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে।
