ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও দরকার প্রোটিন, বলছেন পুষ্টিবিদরা

শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশি গঠন থেকে শুরু করে হরমোনের ভারসাম্য, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ থেকে বিপাক ক্রিয়া সবেতেই এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে বছর ৪০ পেরোতে না পেরোতেই অনেকেই প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারেন না।
পুষ্টিবিদদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ‘অ্যানাবলিক রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি হয়। অর্থাৎ, কম বয়সে যে পরিমাণ প্রোটিন শরীর সহজে শোষণ করে পেশি গঠন করতে পারত, চল্লিশের পর সেই একই ফল পেতে বেশি প্রোটিন প্রয়োজন হয়। ফলে দৈনিক খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।
সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন বলে ধরা হয়। তবে ৪০ বছরের পর এই মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১.৬ থেকে ২.২ গ্রাম পর্যন্ত। বিশেষত যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজন আরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি প্রধান খাবারের সঙ্গে ৪০-৫০ গ্রাম প্রোটিন থাকা উচিত।

প্রোটিনের অভাবে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে?
১) অস্বাভাবিক ক্লান্তি: পর্যাপ্ত ঘুম ও খাবার সত্ত্বেও সারাদিন ক্লান্ত লাগা প্রোটিনের অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে।
২) ঘন ঘন খিদে পাওয়া: প্রোটিন পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এর অভাবে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
৩) রক্তে শর্করার ওঠানামা: বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের ঘাটতি রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
৪) ত্বক ও চুলের সমস্যা: ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পড়া এসবও প্রোটিনের অভাবের লক্ষণ হতে পারে।
৫) ক্ষত সারতে দেরি: শরীরে কোনও ক্ষত দীর্ঘদিন না শুকোলে তা পুষ্টির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল, রাজমা, ডিম, মাছ, বাদামসহ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। পাশাপাশি, নিজের ওজন ও শারীরিক সক্রিয়তার মাত্রা অনুযায়ী প্রোটিনের চাহিদা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।