উলের সামগ্রী গড়ে ঘরে বসেই স্বপ্ন পূরণের পথে পপি

যতই সময় এগিয়ে যাক না কেন, শীত এলেই মনে পড়ে ছোটবেলার সেই উষ্ণ দিনগুলোর কথা উলের তৈরি জামাকাপড়, মায়ের হাতে বোনা সোয়েটার আর মাফলার।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই উলের পোশাক যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। তবুও সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে নতুনভাবে তুলে ধরছে ইস্টান বাইপাসের সংলগ্ন ক্ষুদিরাম পল্লী এলাকার কলেজপাস পড়ুয়া পপি রায়।

সবে কলেজ পাশ করলেও নিজের উপর অটুট বিশ্বাস রেখে একের পর এক নতুন ডিজাইনের উলের সামগ্রী তৈরি করছে পপি। তার হাতে তৈরি হচ্ছে সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, মোবাইল ফোনের কভার, বালিশ, এমনকি রঙিন ফুলের তোড়াও। খুবই স্বল্প মূল্যে এই সব সামগ্রী বিক্রি করে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছেন সে।

পপি জানান, এই কাজের হাতেখড়ি তাঁর মায়ের কাছেই। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে আরও নতুন নতুন ডিজাইন ও কৌশল শিখেছে। পপির কথায়, “প্রশাসন যদি এই ধরনের ঘরোয়া শিল্পের জন্য আরও কিছু ব্যবস্থা করে, তাহলে অনেক স্বনির্ভর পথ আরো সহজ হবে।”

শুধু নিজেই কাজ করে থেমে থাকতে চান না পপি। কেউ শিখতে চাইলে সে আনন্দের সঙ্গে শেখাতেও প্রস্তুত। তাঁর মতে, যারা সারাদিন বাড়িতে থাকেন বা সময় নষ্ট করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, তারা চাইলে এই কাজ শিখে ঘরে বসেই কিছুটা হলেও আয় করতে পারেন।

বর্তমানে বছরে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস উলের সামগ্রীর চাহিদা বেশি থাকলেও, বাকি সময়েও অর্ডার আসে বলে জানান পপি।