লিঙ্কডইনের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতীয় পেশাজীবীদের মধ্যে চাকরি সংক্রান্ত প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে

লিঙ্কডইন-এর নতুন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনেরও বেশি বা প্রায় ৮২% মানুষ কোনও চাকরিতে আবেদন করার আগে সেটি আসল কি না, তা যাচাই করে দেখছেন। প্রায় ৫৩% মানুষ জানিয়েছেন যে, এক বছর আগের তুলনায় এখন তারা অনেক বেশি সচেতন। লিঙ্কডইনের ‘জব সার্চ সেফটি পালস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ৫৪% তরুণ চাকরিপ্রার্থী স্বীকার করেছেন যে, কোনও বড় সুযোগ হাতছাড়া না করার তাগিদে তারা মাঝেমধ্যে ভুয়ো চাকরির সতর্কবার্তা এড়িয়ে গিয়েছেন। ৪৯% জেন-জি পেশাদার জানিয়েছেন যে তারা প্রায় জালিয়াতির শিকার হতে যাচ্ছিলেন, যেখানে জেন-এক্স-এর ক্ষেত্রে এই হার ৩৬%। রিক্রুটারের কাছ থেকে প্রথম মেসেজ পাওয়ার সময় ১৮% প্রার্থী সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন, কারণ এই সময়ে তথ্যের অভাব থাকে। দেখা গিয়েছে যে, ৯০% ক্ষেত্রে প্রতারকরা চাকরিপ্রার্থীদের লিঙ্কডইনের মতো নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে পার্সোনাল মেসেজিং অ্যাপে (যেমন হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম) নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ভুয়ো চাকরি রুখতে লিঙ্কডইন তিনটি স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং মেসেজ সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর আগেই আটকে দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানি ও রিক্রুটারদের প্রোফাইলে ভেরিফিকেশন ব্যাজ দেওয়া হচ্ছে যাতে সদস্যরা সঠিক তথ্য পান। অনেক ঝুঁকি রয়েছে এমন চাকরি পোস্ট করছেন যারা, তাদের জন্য আইডি ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা এবং সন্দেহজনক পোস্টের দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। লিঙ্কড ইন ইন্ডিয়ার হেড অফ লিগ্যাল অ্যান্ড পাবলিক পলিসি অদিতি ঝা বলেছেন, “অনলাইনে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে স্ক্যাম এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের গবেষণা বলছে সচেতনতা বাড়ছে, কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সেই সচেতনতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং। আমরা একটি নিরাপদ ইকোসিস্টেম গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

লিঙ্কডইন চাকরিপ্রার্থীদের যাচাই করে তবেই বুঝে শুনে বা ভেরিফিকেশন ব্যাজ দেখে চাকরির প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে দ্রুত রিপোর্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।