১৪ বছর পর মুম্বইয়ের জয়যাত্রা শুরু: মন্থর বলের জাদুতে কেকেআরকে রুখলেন শার্দূল ঠাকুর

আইপিএলের মঞ্চে দীর্ঘ ১৪ বছরের খরা কাটিয়ে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে এই জয়ের নায়ক ঘরের ছেলে শার্দূল ঠাকুর। তবে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য এবং শার্দূলের মধ্যকার আবেগঘন কথোপকথন এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে ৩৯ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন শার্দূল ঠাকুর। ফিন অ্যালেন, অজিঙ্ক রাহানে এবং ক্যামেরন গ্রিনের মতো বিপজ্জনক ব্যাটারদের প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে কেকেআরের বড় স্কোরের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই কেকেআরের স্কোর ২৫০-এর বদলে ২২০ রানে আটকে যায়।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হার্দিক পাণ্ড্য শার্দূলের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শার্দূলের ঘনঘন দলবদল নিয়ে মজার ছলে হার্দিক বলেন, “আমি ওকে বলেছি, অনেক তো দলবদল হলো! এবার মুম্বইয়েই থিতু হও এবং এখান থেকেই নিজের কেরিয়ার শেষ করো।” হার্দিক আরও যোগ করেন যে, শার্দূল একজন নির্ভীক ক্রিকেটার এবং সবসময় ব্যাটারদের বোকা বানানোর ক্ষমতা রাখেন।

অধিনায়কের এই বিশেষ আবদারে আপ্লুত শার্দূল ঠাকুরও। তিনি জানান, মুম্বই তাঁর নিজের শহর এবং এখানে খেলতে পারা তাঁর কাছে সবসময়ই গর্বের। ১৬ বছর আগের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, “২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আমি এই দলেই নেট বোলার ছিলাম। আজ সেই দলের হয়েই ম্যাচের সেরা হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”

ওয়াংখেড়ের পিচকে হাতের তালুর মতো চেনা শার্দূল জানতেন যে বলের গতির হেরফেরই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি। তাঁর তিনটি উইকেটই এসেছে মন্থর বা স্লোয়ার ডেলিভারিতে, যা বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন কেকেআর ব্যাটাররা। লখনউ সুপার জায়ান্টস থেকে মুম্বইয়ে ফিরে প্রথম ম্যাচেই নিজের জাত চেনালেন এই অলরাউন্ডার।হার্দিক ও শার্দূলের এই যুগলবন্দি মুম্বই সমর্থকদের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। ঘরের ছেলের এই পারফরম্যান্স আগামী ম্যাচগুলোতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে কতটা আত্মবিশ্বাস দেয়, সেটাই এখন দেখার।