ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত তার মেজ ছেলে মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে এই রহস্যের জট খুলেছেন ইরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত। তিনি অত্যন্ত সরাসরি ও সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানেই আছেন এবং দেশের বাইরে যাওয়ার খবরগুলো ভিত্তিহীন। রুশ দূতের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের গতিবিধি নিয়ে বিশ্বজুড়ে কড়া নজরদারি চলছে।
রুশ দূতের এই বক্তব্যের পর মোজতবা খামেনির ‘নিখোঁজ’ হওয়া বা দেশত্যাগ সংক্রান্ত জল্পনাগুলোর অনেকটাই অবসান ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাথে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক থাকায় রুশ দূতের দেওয়া এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা অনেক বেশি। মোজতবা খামেনিকে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদিও তিনি সাধারণত ক্যামেরার সামনে খুব কম আসেন। তার অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি মূলত ইরানের শত্রু পক্ষগুলোর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করছে তেহরান ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো। রুশ দূত স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট সুসংহত।
বর্তমানে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে মোজতবা খামেনির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তার প্রভাব অনস্বীকার্য। রাশিয়ার মতো একটি শক্তিশালী মিত্র দেশের পক্ষ থেকে তার অবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় গুরুত্ব বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তবে এই বিবৃতির পরেও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। আপাতত রুশ রাষ্ট্রদূতের এই তথ্যের পর মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক ধোঁয়াশা অনেকটাই কেটে গেছে।
