ঝুঁকি কাটিয়ে রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট রোগী হলেন মা, সৌজন্যে মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার প্রমাণ দিল মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর। হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক অত্যন্ত জটিল ও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। ২০২৩ সালে কিডনি প্রতিস্থাপন হয় বর্ধমানের ৩৩ বছর বয়সী গৃহবধূ মাধবীলতা কুণ্ডুর। তিনি ১৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তখন তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত গুরুতর। দীর্ঘমেয়াদী ইমিউনোসপ্রেসিভ থেরাপি, উচ্চ রক্তচাপ এবং আগে থাকা গর্ভপাতের ইতিহাস সবটাই মা ও ভ্রূণ, উভয়ের প্রাণ সংশয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ডঃ উপোল সেনগুপ্ত (নেফ্রোলজি) এবং ডঃ শিল্পিতা ব্যানার্জীর (গাইনোকোলজি ও অবস্টেট্রিক্স) নেতৃত্বে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম এই কঠিন লড়াইয়ের দায়িত্ব নেয়।
গর্ভাবস্থার ২১ সপ্তাহে গ্রাফ্ট ডিসফাংশন, তীব্র রক্তাল্পতা এবং সংক্রমণের মতো একাধিক জটিলতা দেখা দিলেও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ২৮ সপ্তাহে কিডনির অবস্থার অবনতি এবং ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় মা ও প্রতিস্থাপিত কিডনি রক্ষার্থে চিকিৎসকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। ৩০ সপ্তাহ ৩ দিনের মাথায় একটি পরিকল্পিত সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে ১.৬ কেজি ওজনের কন্যা সন্তানের জন্ম হয় মাধবীলতার। জন্মের পর শিশুটিকে ২০ দিন এনআইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল।
ডঃ শিল্পিতা ব্যানার্জী জানান, টিমওয়ার্ক এবং সতর্ক থেকে কঠোর নজরদারির মাধ্যমেই এই সাফল্য আনা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ডঃ উপোল সেনগুপ্ত বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রতিস্থাপিত কিডনিকে সুরক্ষিত রেখে গর্ভাবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।” বর্তমানে মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন, যা মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুরের উন্নত পরিষেবার প্রমাণ দেয়।