হাওড়া স্টেশনে টহল দেওয়ার সময় আরপিএফের সিআইবি (CIB) দলের হাতে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যাগ থেকে প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের পর ওই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে আয়কর দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, হাওড়া স্টেশনে সিআইবি দলের সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। সেই সময় দলের নজরে পড়ে এক ব্যক্তি। তাঁর আচরণ ও কথাবার্তার ধরন সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করতেই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়। এরপর টাকা গুনে দেখা হলে মোট প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়।
হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তির পরিচয় সুজিত কালে। তিনি মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, মুম্বই মেল করে তিনি হাওড়ায় এসেছিলেন। তাঁর দাবি, গয়ার টাউনশিপ এলাকায় তাঁর একটি দোকান রয়েছে। কলকাতার বড়বাজার থেকে সোনা-রুপো কেনার জন্য তিনি হাওড়ায় এসেছিলেন বলে জানান তিনি। তবে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে যাতায়াতের বিষয়ে তিনি কর্তব্যরত আধিকারিকদের কাছে কোনও স্পষ্ট ও সন্তোষজনক কারণ দেখাতে পারেননি। এরপর ওই টাকা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ব্যক্তিটিকেও হেফাজতে রাখা হয় এবং বিষয়টি আয়কর দফতরকে জানানো হয়। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া টাকা কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। আয়কর দফতরের আধিকারিকরা আসার পর তাঁদের হাতে ওই টাকা তুলে দেওয়া হবে। এরপর টাকার উৎস এবং কোথা থেকে কোথায় তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, হাওড়া স্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও আরপিএফ এবং সিআইবির অভিযানে যাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে। নগদ অর্থের অবৈধ লেনদেনের সম্ভাবনার কারণে হাওড়া স্টেশনকে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলির মধ্যে একটি হিসেবে দেখা হয়। নিয়মিত টহল ও তল্লাশির সময় সন্দেহভাজন যাত্রীদের উপর নজর রাখা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৬৭ লক্ষ টাকার প্রকৃত উৎস কী এবং কোথায় তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্রের দাবি, হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তি অন্য কারও টাকা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কুরিয়ার হিসেবে কাজ করে থাকতে পারেন। তবে এই দাবির এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। আয়কর দফতরের তদন্তের পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
