ট্রাম্পের দাবি নাকচ ইরানের: যুদ্ধ বন্ধে কোনো সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নেই

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির ঠিক বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেছে ইরান। সম্প্রতি ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ বা কোনো ধরনের সমঝোতা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদেশি হস্তক্ষেপ না কমছে, ততক্ষণ আলোচনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে তারা স্রেফ রাজনৈতিক স্টান্ট এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে।

এদিকে, এই কূটনৈতিক বাদানুবাদের মধ্যেই রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে ৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ইরান একে আমেরিকার একটি একতরফা সিদ্ধান্ত এবং যুদ্ধ কৌশল হিসেবে দেখছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যেকোনো ধরনের আলোচনার আগে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ এবং পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রমাণ চায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তেলের বাজারে অস্থিরতা কমাতে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধস থেকে রক্ষা করতেই এই আলোচনার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।