কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রবিবার রাত থেকে দার্জিলিং জেলায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়, যা সোমবারও অব্যাহত ছিল। আবহাওয়া দপ্তর আজ, মঙ্গলবারও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কার্শিয়াংয়ে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টির জেরে তিস্তার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় কালিম্পংয়ের তিস্তাবাজার এলাকায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ জলের তলায় চলে গেছে। ১৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি দার্জিলিং, কালিম্পং এবং গ্যাংটকের মতো শহরগুলিকে সংযুক্তকারী ‘লাইফলাইন’ হিসাবে পরিচিত। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির একাংশ ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সমস্ত যানবাহনের অভিমুখ ঘুরিয়ে লাভা হয়ে কালিম্পং এবং সিকিমের দিকে পাঠানো হচ্ছে। তিস্তাবাজার এলাকায় পেশক রোডও জলের তলায় থাকায় দার্জিলিং থেকেও সমস্ত গাড়ি ঘুরপথে যাতায়াত করছে।
বৃষ্টির কারণে দার্জিলিংয়ের হুকার রোড এবং মানেভঞ্জন-বিজনবাড়ি সড়কে ধস নেমেছে। দার্জিলিং শহরে বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং সোমবার রাত থেকে বেশ কিছু এলাকায় লোডশেডিং চলছে। লোধামায় আজ ভোরে নতুন করে ধস নামার খবর পাওয়া গেছে। তিস্তা নদীর পাশাপাশি মহানন্দা ও বালাসন নদীতেও জলস্তর বেড়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, এই মুহূর্তে পাহাড়ে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পাহাড়ে এখনও পুরোদমে বর্ষা শুরু হয়নি। অগস্টের প্রথম সপ্তাহে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নিম্নচাপ সরে যাওয়ায় বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে পাহাড়ে বর্ষার আগমন ঘটবে। আবহাওয়া দপ্তর প্রশাসনকে এই বিষয়ে সতর্ক করেছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
