গুজরাতে নিম্নমানের সেচখাল ভাঙলেন বিধায়ক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ সরকারের

সরকারি প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ, অথচ কাজের মান এতটাই নিম্নমানের যে হাতুড়ির সামান্য আঘাতেই তা ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ল। গুজরাতের খেড়া জেলায় এক সেচখাল নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির এমনই এক নজিরবিহীন ছবি সামনে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে খোদ বিধায়ক হাতুড়ি হাতে তুলে নিতেই ফাঁস হয়ে গেল ঠিকাদার ও প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খেড়া জেলার কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবির কথা মাথায় রেখে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেচখাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রশাসন। এর জন্য সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ করা হয়েছিল ২ কোটি টাকা। কাজ শুরু হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, অত্যন্ত নিম্নমানের সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করে খালটি তৈরি করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় পৌঁছান স্থানীয় বিধায়ক। গ্রামবাসীদের অভিযোগ শুনে তিনি পরীক্ষা করার জন্য একটি হাতুড়ি আনিয়ে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিধায়ক যখন হাতুড়ি দিয়ে খালের নবনির্মিত কংক্রিটের দেওয়ালে আঘাত করেন, তখন তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে থাকে। সামান্য আঘাতেই কংক্রিটের স্তর খসে পড়ায় স্তম্ভিত হয়ে যান বিধায়ক স্বয়ং। কোটি কোটি টাকা খরচ করে কীভাবে এমন ‘ঠুনকো’ নির্মাণ সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিধায়ক তৎক্ষণাৎ বিষয়টি রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানান এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেন। তাঁর কড়া মনোভাব দেখে রাজ্য সরকার তড়িঘড়ি ওই ত্রুটিপূর্ণ সেচখালটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। এরপরই এলাকায় আনা হয় বুলডোজার বা জেসিবি। সরকারি নির্দেশেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই কাঠামো।

এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিধায়কের এই ‘অ্যাকশন’ প্রশংসিত হলেও, সরকারি অর্থের এমন অপচয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। কৃষকদের স্বার্থে পুনরায় উন্নত মানের সামগ্রী দিয়ে সেচখালটি তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি কাজে দুর্নীতির এই পর্দাফাঁস আগামী দিনে প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।