কলকাতা থেকে কয়েক দিনের সফরে রাঁচি, সিমডেগা ও পত্রাতু ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করতে পারেন। চেনা পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে ঝাড়খণ্ডের সিমডেগায় রয়েছে প্রাচীন দুর্গ, পাহাড়ি নদী, নির্জন জলাধার ও জলপ্রপাত। চারচাকায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন যাঁরা, তাঁদের কাছে এই সফর হতে পারে অনন্য অভিজ্ঞতা।
কলকাতা থেকে প্রথমে রাঁচি পৌঁছে সেখান থেকে সিমডেগার পথে রওনা দেওয়া যায়। রাঁচি থেকে সিমডেগার দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার। পথে ঘুরে নেওয়া যায় নাগবংশী রাজাদের প্রাচীন নবরতনগঢ় দুর্গ। দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, পাথুরে টিলা ও সবুজ প্রান্তর ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণ করবে।
সিমডেগায় রয়েছে বাঘমুন্ডা, দনগদ্দী ও রাজাডেরা জলপ্রপাত। বর্ষার পরে নদীর জলস্রোত ও পাথুরে ভূখণ্ডের সৌন্দর্য এই এলাকাকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তোলে। এ ছাড়া কৈরবেড়া ড্যাম, কেলাঘাট ড্যাম, রামরেখা ধাম এবং বসতপুর ঘুরে দেখতে পারেন। নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য জায়গাগুলি উপযুক্ত।
সিমডেগায় পর্যটকের আনাগোনা তুলনামূলক কম। তাই থাকার জায়গা সীমিত হওয়ায় আগে থেকে হোটেল বুক করে যাওয়া ভালো। কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে পৌঁছতে স্থানীয়দের সাহায্য নিতে হতে পারে। পাহাড়ি ও গ্রামের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় দিনের আলো থাকতেই যাতায়াত সেরে নেওয়া উচিত।
সিমডেগা ঘুরে ফেরার পথে রাঁচির দশম জলপ্রপাত দেখা যায়। সময় হাতে থাকলে হুন্ড্রু, জোনহা ও সীতা জলপ্রপাতও ঘুরে নিতে পারেন। তবে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে হয় বলে বয়স্ক পর্যটকদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
সফরের শেষপর্বে রাঁচি থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের পত্রাতুতে যাওয়া যায়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা, পত্রাতু জলাধার, স্পিডবোট এবং আশপাশের সবুজ প্রকৃতি ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। কাছেই রয়েছে পালানি জলপ্রপাত। পত্রাতুতে রাত কাটিয়ে পর দিন রামগড়, বোকারো ও আসানসোলের দিক দিয়ে কলকাতায় ফেরা যায়।
কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে রাঁচি সড়কপথে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। রাঁচি থেকে সিমডেগা প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার এবং পত্রাতু প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। যাত্রার আগে রাস্তার অবস্থা, হোটেলের বুকিং এবং জলপ্রপাতগুলিতে প্রবেশের বর্তমান পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভাল।
কোথায় থাকবেন: রাঁচিতে বিভিন্ন বাজেটের হোটেল রয়েছে। সিমডেগায় থাকার ব্যবস্থা সীমিত, তাই আগাম বুকিং জরুরি। পত্রাতুতে পর্যটন দফতরের আবাসন ও অন্যান্য থাকার জায়গার খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।
