ভোটার তালিকায় নাম নেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির: আইনি সিদ্ধান্তের পর পদক্ষেপ

কলকাতা হাইকোর্টের একজন প্রাক্তন বিচারপতির নাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সাধারণত কোনো বিচারপতির কর্মজীবন এবং পরবর্তী আবাসের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও, এই ক্ষেত্রে বিষয়টি আইনি এবং প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণের (Adjudication) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই প্রাক্তন বিচারপতির বর্তমান আবাসের স্থান এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ঠিকানার মধ্যে অসংগতি থাকায় অথবা নির্দিষ্ট কিছু আইনি নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা যুক্ত হওয়া একটি সাংবিধানিক নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়। যদি কোনো নাগরিক নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তার ঠিকানার প্রমাণ বা যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন অথবা অন্য কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার এবং নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন অফিসার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। এই প্রাক্তন বিচারপতির ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক ও বিচারবিভাগীয় মহলে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ সাধারণত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি বিরল।

বর্তমানে ওই প্রাক্তন বিচারপতি পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করতে পারবেন কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো বিশেষ কারণ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে যে, প্রতিটি নাগরিকের ন্যায় প্রাক্তন বিচারপতিরও আইনি প্রতিকার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে আপাতত ভোটার তালিকায় তার নাম না থাকায় আসন্ন কোনো নির্বাচনে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর। প্রশাসন আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রদান করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।