বিদেশি ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগে চিকিৎসক ও তৃণমূল নেতা ডা. শান্তনু সেনের চিকিৎসা রেজিস্ট্রেশন দুই বছরের জন্য বাতিল করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই বছর তিনি আর ডাক্তারি প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।
রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডা. সেন তাঁর নামের পাশে “FRCP (Glasgow)” ডিগ্রি ব্যবহার করছিলেন, যা একটি সাম্মানিক ফেলোশিপ এবং চিকিৎসা প্র্যাকটিসের জন্য বৈধ ডিগ্রি নয়। কাউন্সিলের মতে, এই ডিগ্রিটি প্রেসক্রিপশনে ব্যবহারযোগ্য নয় এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার শামিল।
- জুন মাসে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়।
- একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ।
- ৩ জুলাই কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাঁর রেজিস্ট্রেশন দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হবে।
- তাঁর নাম রাজ্য ও জাতীয় মেডিক্যাল রেজিস্ট্রি থেকেও বাদ দেওয়া হবে।
ডা. শান্তনু সেন এই সিদ্ধান্তকে “অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, কাউন্সিল তাঁকে ব্যাখ্যার সুযোগ না দিয়েই রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে। তাঁর বক্তব্য, “আমি গ্লাসগো থেকে একটি সাম্মানিক ডিগ্রি পেয়েছি, যা নিয়ম মেনেই ব্যবহার করেছি। কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি আদালতে যাব এবং মানহানির মামলা করব”।
প্রসঙ্গত, শান্তনু সেন দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অবস্থান থেকে সরে আসা ও বিভিন্ন বিতর্কে জড়ানোর কারণে তাঁকে দল থেকেও সাসপেন্ড করা হয়। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকেও সরকারি প্রতিনিধি পদ হারান তিনি।
এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের চিকিৎসা মহলে আলোড়ন তুলেছে। চিকিৎসকদের একাংশ এই পদক্ষেপকে “প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলাবিধান” হিসেবে দেখলেও, অন্য অংশ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলেই মনে করছেন।
চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে আগামী দিনে আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে ডা. সেনের চিকিৎসা পেশায় ফিরে আসার ভবিষ্যৎ।
