বাংলাদেশি তকমায় তামিলনাড়ুতে ২২ দিন ধরে বন্দি বাংলার শ্রমিক—পরিবারের আর্তি, প্রশাসনের দ্বারস্থ টাকির বাসিন্দারা

টাকি, উত্তর ২৪ পরগনা, ১২ আগস্ট: তামিলনাড়ুর পেরেমবালা থানার পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে উত্তর ২৪ পরগনার টাকি পুরসভার রাজীব শেখ নামে এক পরিযায়ী শ্রমিককে গত ২২ দিন ধরে আটক করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজীবের পরিবার জানিয়েছে, সমস্ত বৈধ পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার পরও তাঁকে ছাড়া হয়নি। ফলে আতঙ্ক ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা।

রাজীব শেখ টাকি পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। গত পাঁচ বছর ধরে তামিলনাড়ুর একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। ২২ জুলাই সন্ধ্যায় পেরেমবালা থানার পুলিশ তাঁকে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে। অভিযোগ, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয়।

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, আধার কার্ড, ভোটার আইডি-সহ সমস্ত নথি তামিলনাড়ু পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবু রাজীবকে ছাড়া হয়নি। তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বিবি বলেন, “স্বামীর সঙ্গে ফোনে ঠিকমতো কথা বলা যাচ্ছে না। কোথায়, কী অবস্থায় আছেন, কিছুই জানি না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন, যেন তাঁকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”

রাজীবের ছেলে জাহিদুল ইসলাম শেখ বলেন, “আমার বাবা নিরপরাধ। শুধু বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁকে বাংলাদেশি বলা হয়েছে। এটা অন্যায়।” বসিরহাটের কাউন্সিলর গোবিন্দ সরকার জানান, “পরিবারের পক্ষ থেকে সমস্ত নথি পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যেন অবিলম্বে তাঁকে মুক্ত করা হয়।”

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান জানান, “তামিলনাড়ু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। রাজীবের সমস্ত পরিচয়পত্র পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুত তাঁকে মুক্ত করে বাড়ি ফেরানো সম্ভব হবে।”

রাজ্যজুড়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করার ঘটনা আগেও ঘটেছে দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে। এবার তামিলনাড়ুতে একই অভিযোগে একজন নিরপরাধ শ্রমিককে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখার ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠছে।