পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমোজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি ইরান এবার লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রবেশপথ বাব আল-মানদাব প্রণালীর দিকে নজর দিচ্ছে বলে এক শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের এক উচ্চপদস্থ সামরিক উপদেষ্টা সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশল এখন আঞ্চলিক জলসীমা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ধমনী হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা তেহরানের নতুন অগ্রাধিকার। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানের এই অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। হরমোজ প্রণালীতে ইরানের যে শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে, তা লোহিত সাগরের প্রবেশপথে প্রসারিত হলে বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ সরাসরি তেহরানের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
এই নতুন সামরিক অবস্থানের নেপথ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাব আল-মানদাব প্রণালীটি এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে, যা সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে পণ্য পৌঁছানোর প্রধান পথ। ইরান যদি এই প্রণালীতে পরোক্ষ বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে তারা ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর রসদ সরবরাহের পথ রুদ্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান মূলত একটি ‘মেরিটাইম রেজিস্ট্যান্স’ বা নৌ-প্রতিরোধ বলয় তৈরি করার চেষ্টা করছে যা ভূমধ্যসাগর থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তেহরানের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে এবং লোহিত সাগরে সামরিক টহল ও উত্তেজনার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই ইঙ্গিতের পর থেকে সৌদি আরব ও মিশরসহ উপকূলীয় দেশগুলো তাদের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা জোরদার করার কথা ভাবছে, যা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে এক অস্থির মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
