শ্রদ্ধার এক বিরল মুহূর্ত: ৯৭ বছর বয়সি মাখন লাল সরকারের চরণ স্পর্শ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। মঞ্চে উপস্থিত প্রবীণ সমাজসেবী ও প্রাক্তন বিপ্লবী ৯৭ বছর বয়সি মাখন লাল সরকারের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভিড়ে কে এই মাখন লাল সরকার, তা নিয়ে দেশজুড়ে এখন প্রবল কৌতূহল। মাখন লাল মূলত অবিভক্ত বাংলার একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং পরবর্তী জীবনে একজন নিভৃতচারী কৃষক নেতা হিসেবে পরিচিত। দেশভাগের যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে জীবন অতিবাহিত করা এই মানুষটি পশ্চিমবঙ্গের উদ্বাস্তু আন্দোলন এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ সাত দশক ধরে কাজ করে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বিনম্র আচরণ কেবল বয়োজ্যেষ্ঠর প্রতি সম্মান প্রদর্শন নয়, বরং বাংলার শিকড় ও ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি বলিষ্ঠ বার্তা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

মাখন লাল সরকারের জীবন ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণে তিনি কারাবরণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ভারত গঠনের পর গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি ছোট গ্রামে বসবাস করেন এবং এখনও সক্রিয়ভাবে স্থানীয় লাইব্রেরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার কাজে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রায়ই প্রবীণ ও ত্যাগী ব্যক্তিত্বদের প্রকাশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির ‘সংস্কার’ তুলে ধরেন, এবং মাখন লালের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী যখন তার সামনে নতজানু হন, তখন গোটা ময়দান করতালিতে ফেটে পড়ে। এই ঘটনাটি কেবল একটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ নয়, বরং বাংলার হারানো ইতিহাস ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার গঠনের দিনে এই প্রবীণ বিপ্লবীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে একটি ভিন্ন মাত্রা প্রদান করেছে।