মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় গত মঙ্গলবার ভোরে এক ভয়াবহ বোমা হামলায় দুই নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষ্ণুপুরের মইরাং ট্রংলাওবি এলাকায় গভীর রাতে একটি আবাসিক বাড়িতে এই হামলা হয়, যখন পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। হামলায় ৫ বছর বয়সী একটি ছেলে এবং মাত্র ৬ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান প্রাণ হারায়। হামলায় শিশুদের মা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার খবর ছড়াতেই সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। রাজধানী ইম্ফলসহ উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ মিছিল, রাস্তা অবরোধ এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিষ্ণুপুরসহ পাঁচটি উপত্যকা এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাজ্যের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী যুম্নাম খেমচাঁদ সিং এক উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি এই হামলাকে ‘বর্বর’ এবং ‘মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলাটি ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, রাজ্যের শান্তি বিনষ্টের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং নিরীহ শিশুদের রক্ত যারা ঝরিয়েছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। এদিকে, বিক্ষোভ দমাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য স্পর্শকাতর এলাকায় টহল দিচ্ছেন। শোকাতুর মণিপুরের সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন, যাতে এই ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
