উদ্যম ব্যাপারের ‘দ্য ইস্ত্রি প্রজেক্ট’ -এর ১০০ কোটি টাকার মাইলফলক অর্জন

‘ইস্ত্রি প্রজেক্ট’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিনের কয়লাভিত্তিক ইস্ত্রি শিল্পকে আধুনিক ও টেকসই পথে নিয়ে যাওয়া। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাস্তায় কাপড় ইস্ত্রি করা ছোট ব্যবসায়ীদের সাবসিডি মূল্যে কয়লার পরিবর্তে এলপিজি চালিত ইস্ত্রি ব্যবহার করতে সাহায্য করা হয়। এর ফলে তাদের জ্বালানির খরচ প্রায় অর্ধেক কমে যায় এবং দৈনিক কাজের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে তাদের আয়ে, আরও বেশি গ্রাহককে সেবা দিয়ে তারা বাড়তি রোজগার করতে পারেন। পাশাপাশি কয়লার বদলে এলপিজি ব্যবহার করার ফলে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, দুই-ই আরও সুরক্ষিত হয়।গত চার বছরে উদ্যম ব্যবসা ‘ইস্ত্রি প্রজেক্ট’-কে এক শহর থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি শহরে নিয়ে গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৮,০০০-এরও বেশি ইস্ত্রিওয়ালা এলপিজি ইস্ত্রি ব্যবহারে পরিবর্তিত হয়েছেন। এই উদ্যোগে যুক্ত ব্যবসায়ীরা গড়ে ২৫% আয় বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছেন এবং প্রতিবছর ৬,০০০ টনেরও বেশি কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্যম লার্নিং ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণান রঙ্গনাথন বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ভারতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাই দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। যথাযথ সহায়তা পেলে তারাই লক্ষ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারেন। ‘ইস্ত্রি প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে ₹১০০ কোটির মাইলফলক ছোঁয়া শুধু উদ্যমের সাফল্য নয়, বরং সেই হাজারো ইস্ত্রিওয়ালার সাফল্য, যারা পরিবর্তনকে আপন করে নিয়েছেন। এই প্রকল্প প্রমাণ করে, স্থানীয় জীবিকাভিত্তিক সমাধানগুলো জাতীয় স্তরে কীভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, আয়ে, স্বাস্থ্যে এবং পরিবেশে।”

উদ্যম ব্যাপারের দ্য ইস্ত্রি প্রজেক্টের প্রোগ্রাম প্রধান সিরিল জোসেফ বলেন, “এই অর্জন মূলত তাদের যারা আমাদের উপর আস্থা রেখেছেন, কয়লার পরিবর্তে এলপিজি বেছে নিয়েছেন এবং তাদের ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। ইস্ত্রি প্রজেক্টের সূচনা হয়েছিল এক সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে, বিক্রেতাদের জ্বালানির খরচ বাঁচানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। আজ এটি এক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে, যা তাদের জীবন ও পরিবেশে বাস্তব পরিবর্তন আনছে।” এই ₹১০০ কোটির মাইলফলক উদযাপনের সঙ্গে উদ্যম ব্যবসা এখন আরও বৃহৎ পরিসরে উদ্যোগটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। আগামী এক দশকের মধ্যে তারা ভারতের রাস্তায় কয়লা-চালিত ইস্ত্রির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে। সেইসঙ্গে উদ্যম আহ্বান জানাচ্ছে সামাজিক প্রভাবক সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট CSR এবং সরকারকে, এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে।