“এগুলি নারীকে হীন প্রতিপন্ন করার পরিকল্পনা”: লিঙ্গ বৈষম্যমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান

ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ সম্প্রতি বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় এবং আইনি নথিপত্রে নারীদের প্রতি ব্যবহৃত আপত্তিকর ও বৈষম্যমূলক শব্দের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সমাজ বা আইনি ব্যবস্থায় নারীকে খাটো করে দেখার বা তাঁদের হীন প্রতিপন্ন করার যেকোনো মানসিকতা বা পরিকল্পনা আধুনিক বিচারব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে আইনি বয়ান বা তর্কের সময় এমন কিছু শব্দ বা শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয় যা পরোক্ষভাবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে প্রশ্রয় দেয় এবং নারীর সম্মানহানি করে। এই ধরনের শব্দচয়ন বা মানসিকতা আদতে লিঙ্গ সমতার পরিপন্থী এবং এটি নারী শক্তিকে অবদমিত করার একটি পরিকল্পিত প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিচারপতি চন্দ্রচূড় উল্লেখ করেছেন যে, বিচার বিভাগকে অবশ্যই সংবেদনশীল হতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে আদালতের কোনো রায় বা পর্যবেক্ষণ যেন রক্ষণশীল সামাজিক কুসংস্কারকে উৎসাহিত না করে। সুপ্রিম কোর্ট জোর দিয়ে বলেছে যে, নারীদের পোশাক, চরিত্র বা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো প্রকার অবমাননাকর মন্তব্য বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে না। এই ধরনের চর্চা বন্ধ করতে শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যে একটি নির্দেশিকা বা হ্যান্ডবুক প্রকাশ করেছে, যেখানে বিচারক ও আইনজীবীদের নির্দিষ্ট কিছু লিঙ্গ-বৈষম্যমূলক শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আদালতের মতে, আইনি ভাষা হতে হবে নিরপেক্ষ এবং সম্মানজনক, যাতে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। প্রধান বিচারপতির এই কড়া বার্তা এটিই প্রমাণ করে যে, সংবিধানের মূল আদর্শ মেনে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে এবং নারীদের সমানাধিকার সুনিশ্চিত করতে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ আগামী দিনে বিচার ব্যবস্থার সংস্কারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।