কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির জোয়ারে গত কয়েক বছর ধরে উড়তে থাকা সুপার মাইক্রো কম্পিউটার ইনকর্পোরেটেড (SMCI)-এর শেয়ার দরে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার নিয়মিত লেনদেন শেষ হওয়ার পর পোস্ট-মার্কেট আওয়ার্সে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মূলত প্রত্যাশার চেয়ে কম আয় এবং ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া সংশয়ের কারণেই এই ব্যাপক পতন ঘটেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এআই সার্ভার তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই প্রতিষ্ঠানের এমন পতন পুরো প্রযুক্তি খাতের জন্যই একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেয়ার দর পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কোম্পানিটির গ্রস মার্জিন বা মোট মুনাফার হারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস। যদিও কোম্পানিটি তাদের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে, কিন্তু সেই তুলনায় নিট মুনাফা অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই চিপের ক্রমবর্ধমান দাম এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সুপার মাইক্রো কম্পিউটারকে তাদের পণ্যের দাম কমাতে হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তাদের লাভজনকতার ওপর। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির অভ্যন্তরীণ আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব এবং অডিট সংক্রান্ত কিছু জটিলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে পোস্ট-মার্কেট ট্রেডিংয়ে।
বিনিয়োগকারীদের আরেকটি বড় উদ্বেগের জায়গা হলো এআই হার্ডওয়্যারের চাহিদার স্থায়িত্ব। গত এক বছরে সুপার মাইক্রো কম্পিউটারের শেয়ারের দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা অনেকের মতে ছিল কিছুটা অতিরঞ্জিত বা ‘বাবল’। এখন যখন প্রকৃত আয়ের পরিসংখ্যান সামনে আসছে, তখন বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন। এর ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে গেছে। এনভিডিয়া বা ডেলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলোর তুলনায় সুপার মাইক্রো কতটা টিকে থাকতে পারবে, তা নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে ওয়াল স্ট্রিটে।
সব মিলিয়ে, সুপার মাইক্রো কম্পিউটারের এই ১২ শতাংশ পতন কেবল একটি কোম্পানির বিষয় নয়, বরং এটি সামগ্রিক এআই খাতের অস্থিরতাকে তুলে ধরছে। যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোম্পানিটি তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও মার্জিন উন্নতির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পেশ করতে না পারে, তবে শেয়ার দরের এই নিম্নমুখী প্রবণতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তারা পরবর্তী কোয়ার্টারলি রিপোর্টের দিকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
